Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেশনে ‘ভারত’ ব্র্যান্ডের চাল, ডাল দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহতই

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর আকাশছোঁয়া মূল্য থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ‘ভারত’ ব্র্যান্ডের চাল, আটা, ডাল ইত্যাদি রেশন

রেশনে ‘ভারত’ ব্র্যান্ডের চাল, ডাল দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহতই
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর আকাশছোঁয়া মূল্য থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ‘ভারত’ ব্র্যান্ডের চাল, আটা, ডাল ইত্যাদি রেশন দোকানের মাধ্যমে বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই পরিষেবা চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্ত এখনও তা করা যায়নি। এই প্রকল্পটি চালানোর দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ‘নাফেড’। তারা একটি নির্দিষ্ট ইস্যু তোলায় এখনও প্রকল্প চালু করা যায়নি বলে খবর। জটিলতা কাটানোর জন্য রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠন থেকে কয়েকদিন আগে ‘নাফেড’ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। তার কোনও জবাব আসেনি এখনও। ফলে ‘ভারত’ ব্র্যান্ডের চাল, আটা, ডাল সাধারণ মানুষ কবে পাবেন বা আদৌ পাবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে কেজি প্রতি চাল ৩৪ টাকায়, আটা ৩০ টাকায় এবং   ৫৮ থেকে ১০৭ টাকায় বিভিন্ন ধরনের ডাল পাওয়ার কথা। পরে ভোজ্য তেল ও  চিনিকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement

জটিলতার কারণ কী? জানা গিয়েছে, বিক্রয় মূল্য, সরবরাহ ব্যবস্থা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর নাফেডের তরফে এখন বলা হচ্ছে, খাদ্যসামগ্রী নেওয়ার জন্য ডিলারদের ‘ সিকিউরিটি ডিপোজিট ’ হিসেবে টাকা জমা রাখতে হবে।  প্রতিটি পণ্যে কিছুটা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। ডিলাররা যে পরিমাণ সামগ্রী নেবেন, তাতে যত ভর্তুকি রয়েছে, তার সমপরিমাণ টাকা ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ হিসেবে জমা রাখতে হবে। যেমন, চাল, আটায় কেজি প্রতি প্রায় আড়াই টাকা, কোনও কোনও ডালে কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি আছে। নাফেডের যুক্তি, ওই সব পণ্য খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রি হওয়া আটকাতেই এই ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে। কোনও ডিলার এরকম কিছু করেছেন বলে ধরা পড়লে ডিপোজিটের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে। 
অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ বাবদ মোটা টাকা জমা রাখতে হলে অনেকেই এই উদ্যোগে অংশ নেবেন না। ডিলাররা অগ্রিম পুরো টাকা জমা দিয়ে সামগ্রী তুলতে রাজি আছেন। নাফেড তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নাফেডের অতিরিক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর চন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ফেডারেশন চিঠি পাঠায়।  সংগঠনের তরফে রাজ্যভিত্তিক  বন্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও অনিয়ম হলে অর্থ পেতে পারে নাফেড।’ এই অবস্থায় বিশ্বম্ভরবাবুর প্রশ্ন, কোনও প্রভাবশালী মহল এই ভালো উদ্যোগ ভেস্তে দিতে চাইছে না তো!

সম্পর্কিত সংবাদ