রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যু এবং চারজনের অসুস্থতার ঘটনায় হাসপাতাল থেকে দেওয়া স্যালাইনকেই দায়ী করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার দেখা গেল হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পরিজনরা বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে নিয়ে আসছেন। তাঁদের প্রশ্ন করে জানা গেল, হাসপাতাল থেকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে না, বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হচ্ছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় এদিন অসুস্থ তিন প্রসূতিকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে গ্রিন করিডর করে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। তার আগে তাঁদের ডায়ালিসিস করা হয়। তবে প্রসূতিদের পরিবারের উত্তেজনায় অসুস্থদের বের করে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলতে খানিক বেগ পেতে হয় হাসপাতাল কর্মীদের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিন অসুস্থ প্রসূতির মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
Advertisement
প্রসূতি মৃত্যুর প্রতিবাদে রবিবার সারাদিন উত্তাল ছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। এদিনও ক্ষোভ দেখান অসুস্থ ও মৃত প্রসূতিদের পরিবারের সদস্যরা। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ চত্বর ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের স্লোগানে বিক্ষোভে মুখরিত। এতে ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজনরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলো ফায়দা তোলার জন্য সাইলেন্ট জোনে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। প্রচণ্ড শব্দে হাসপাতালের কোনও অ্যানাউন্সমেন্ট শোনা যাচ্ছে না, পাশাপাশি সমস্যা হচ্ছে রোগীদেরও।
হাসপাতালে উপস্থিত কেশপুরের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল বলেন, এখানে সবেতেই রাজনীতি। এতে কি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? সাইলেন্ট জোনে এত হট্টগোল হলে রোগীদেরই সমস্যা হচ্ছে। অপরদিকে, মাতৃমাতে ভর্তি আনন্দপুর থানার আমনপুরের এক প্রসূতির আত্মীয় তাপস রুইদাস বলেন, আমাদের সরকারি হাসপাতাল ছাড়া গতি নেই। নিয়ম অনুসারে ভিতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু খবর পাচ্ছি ভালোই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। এদিন সকাল থেকেই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গেটে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি যুব মোর্চার নেতাকর্মীরা। টোটোতে মাইক বেঁধে শুরু হয় স্লোগান। কিছুক্ষণ বাদে হাসপাতাল চত্বরে এসে পৌঁছয় ডিওয়াইএফআইয়ের নেতাকর্মীরা। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ডিওয়াইএফআই নেতাকর্মীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপির সদর দরজায় তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরে শহরে মিছিলও করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল আঁটসাঁটো।
উল্লেখ্য, বুধবার সিজারিয়ান পদ্ধতিতে পাঁচ প্রসূতির প্রসব হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই প্রসূতিরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুক্রবার ভোরে মামণি রুইদাস (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাকি প্রসূতিদের পরিবারের সদস্যরা। শনিবার স্বাস্থ্য বিভাগের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি স্যালাইন, ব্যবহার হওয়া ওষুধ খতিয়ে দেখেন। তবে এই ঘটনার পিছনে হাসপাতালের চিকিৎসকদের গাফিলতি আছে, নাকি স্যালাইনে সমস্যা রয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
জেলা ডিওয়াইএফআই সম্পাদক সুমিত অধিকারী বলেন, রোগীর পরিজনরা বিক্ষোভের জেরে সমস্যার কথা জানাননি। বরং বলেছেন, বিভিন্ন পরিষেবা পেতে টাকা দিতে হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান না হলে লাগাতার আন্দোলন চলবে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, মাইক বাজলে অসুবিধা হয়, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। কিন্তু প্রতিবাদ হওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। তৃণমূল যেন ভুলে না যায়, ক্ষমতায় আসার আগে তারাও বিভিন্ন হাসপাতালে নানা বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দার জন্য একাজ করছেন। তবে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে কিছুই লাভ হবে না।
হাসপাতালে উপস্থিত কেশপুরের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল বলেন, এখানে সবেতেই রাজনীতি। এতে কি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? সাইলেন্ট জোনে এত হট্টগোল হলে রোগীদেরই সমস্যা হচ্ছে। অপরদিকে, মাতৃমাতে ভর্তি আনন্দপুর থানার আমনপুরের এক প্রসূতির আত্মীয় তাপস রুইদাস বলেন, আমাদের সরকারি হাসপাতাল ছাড়া গতি নেই। নিয়ম অনুসারে ভিতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু খবর পাচ্ছি ভালোই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। এদিন সকাল থেকেই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গেটে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করে বিজেপি যুব মোর্চার নেতাকর্মীরা। টোটোতে মাইক বেঁধে শুরু হয় স্লোগান। কিছুক্ষণ বাদে হাসপাতাল চত্বরে এসে পৌঁছয় ডিওয়াইএফআইয়ের নেতাকর্মীরা। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ডিওয়াইএফআই নেতাকর্মীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপির সদর দরজায় তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরে শহরে মিছিলও করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল আঁটসাঁটো।
উল্লেখ্য, বুধবার সিজারিয়ান পদ্ধতিতে পাঁচ প্রসূতির প্রসব হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওই প্রসূতিরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুক্রবার ভোরে মামণি রুইদাস (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। তারপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাকি প্রসূতিদের পরিবারের সদস্যরা। শনিবার স্বাস্থ্য বিভাগের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি স্যালাইন, ব্যবহার হওয়া ওষুধ খতিয়ে দেখেন। তবে এই ঘটনার পিছনে হাসপাতালের চিকিৎসকদের গাফিলতি আছে, নাকি স্যালাইনে সমস্যা রয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
জেলা ডিওয়াইএফআই সম্পাদক সুমিত অধিকারী বলেন, রোগীর পরিজনরা বিক্ষোভের জেরে সমস্যার কথা জানাননি। বরং বলেছেন, বিভিন্ন পরিষেবা পেতে টাকা দিতে হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান না হলে লাগাতার আন্দোলন চলবে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, মাইক বাজলে অসুবিধা হয়, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। কিন্তু প্রতিবাদ হওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। তৃণমূল যেন ভুলে না যায়, ক্ষমতায় আসার আগে তারাও বিভিন্ন হাসপাতালে নানা বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দার জন্য একাজ করছেন। তবে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে কিছুই লাভ হবে না।



