যে কোনও প্রকল্পের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অক্লান্ত! কখনও জনস্বার্থ, কখনও গরিব-প্রান্তিক মানুষের জন্য চোখের জল ফেলে তিনি প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেন। কিন্তু প্রকল্প ঘোষণা ও তার বাস্তবায়ন যে এক কথা নয়, কিছুদিন গেলেই তা হাড়েহাড়ে টের পান ভুক্তভোগীরা। তখন দেখা যায়, একেকটি প্রকল্প এক এক রকম রোগে আক্রান্ত। ধরা যাক, উজ্জ্বলা প্রকল্পের কথা। দেশের প্রান্তিক পরিবারগুলিতে বিনা পয়সায় গ্যাসের সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার এই প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, দেশের ১০ কোটি পরিবারের কাছে নাকি এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু কিছুদিন যেতেই তাঁর সরকারের রিপোর্ট জানিয়ে দেয়, বিনা পয়সায় গ্যাসের সংযোগ নিলেও অধিকাংশ পরিবারের কাছে সিলিন্ডার কেনার অর্থ না থাকায় অনেকের গ্যাস ওভেনের জায়গা হয়েছে খাটের তলায়। তবু প্রচারের অন্ত নেই। ধরা যাক আরও এক সাড়া জাগানো ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রকল্পের কথা। এই প্রকল্পে রোগের লক্ষণ আবার অন্যরকম। লিঙ্গবৈষম্য দূর করে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৫ সালে। সরকারের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, তার পরের চার বছরে (২০১৬-২০১৯) এই প্রকল্পে মোট ৪৪৬ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে কেন্দ্র। কিন্তু এর প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থই ব্যয় করা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বাবদ। আরও আছে। গত দশ বছরে এই প্রকল্পে মোট ৯৫২ কোটি ৪ লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হলেও এরমধ্যে ৪৫৫ কোটি টাকার কোনও হিসাবই নেই! এই বেনিয়ম সত্ত্বেও ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আদিখ্যেতার শেষ নেই!
Advertisement
এমন কেলেঙ্কারির খবর ধামাচাপা পড়ার আগেই এবার আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে অন্য এক রোগ ধরা পড়েছে সরকারি রিপোর্টে। মূলত দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা পরিবারের জন্য এটি একটি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প। যা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। বলা হয়, বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে সবমিলিয়ে দেশের প্রায় ১০ কোটি পরিবার (প্রায় ৫০ কোটি মানুষ)কে প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। গত বছর এই প্রকল্পের অধীনে সত্তরোর্ধ্ব সব প্রবীণ নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কেন্দ্রের দাবি, শুরু থেকে এ পর্যন্ত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে চিকিৎসা পেয়েছেন সাড়ে ৮ কোটি মানুষ। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদের চিকিৎসা খরচ বাবদ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা মেটায়নি মোদি সরকার! আনসেটেলড ক্লেইমের সংখ্যা প্রায় ৬৪ লক্ষ। এই টাকা প্রাপ্য হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালের। মূলত বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেই এই টাকা বকেয়া রয়েছে। অথচ আয়ুষ্মান ভারতে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য বছরে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা করেছে কেন্দ্র। এই বিপুল অর্থ বকেয়া থাকায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলির কর্মীদের বেতন, ওষুধ যন্ত্রপাতি কেনার খরচ, অন্যান্য সংস্কারের কাজ আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই আশঙ্কা থেকেই বিজেপি শাসিত হরিয়ানা রাজ্যের প্রায় ৬০০টি বেসরকারি হাসপাতালই বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে সরকারকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্পে কেন্দ্র ৬০ শতাংশ এবং রাজ্য সরকারগুলি ৪০ শতাংশ অর্থ খরচ করে। কিন্তু নিজেদের ভাগের টাকা দিতে সেই টালবাহানা করায় গভীর সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ টাকা বকেয়া রেখে স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে মোদি সরকার। এভাবে হাসপাতালগুলির ঘাড়ে বন্দুক রেখে প্রকল্প চালাতে চাইলে আয়ুষ্মান ভারত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের।
কেন্দ্রের এই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প রাজ্যে চালু করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে চলা একটি প্রকল্প শুধু মোদির নামে (এই প্রকল্পটি ‘মোদি-কেয়ার’ নামেও পরিচিত) চলবে, সেই প্রশ্ন তোলে বাংলার সরকার। যদিও ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-এর দু’বছর আগে ২০১৬ সালে এ রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করে মমতার সরকার। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে কোনও শর্ত নেই। রাজ্যে বসবাসকারী সব মানুষ তো বটেই, এমনকী ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। পরিবার পিছু বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প নিয়ে গত ন’বছরে বড় কোনও অভিযোগ শোনা যায়নি। রাজ্যের প্রায় আড়াই কোটি পরিবার এই প্রকল্পের অধীনে রয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৭৫০টি নার্সিংহোমে বিনা পয়সায় চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে তাঁদের। ইতিমধ্যে বাংলার এই প্রকল্পে সুবিধা পেয়েছে ৬৫ লক্ষ পরিবার। এজন্য রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এখন প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার রোগী এই প্রকল্পে পরিষেবা পাচ্ছেন। প্রশ্ন হল, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি আয়ুষ্মান ভারতের রোগ সারানোর চেষ্টা করবেন?
কেন্দ্রের এই স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প রাজ্যে চালু করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে চলা একটি প্রকল্প শুধু মোদির নামে (এই প্রকল্পটি ‘মোদি-কেয়ার’ নামেও পরিচিত) চলবে, সেই প্রশ্ন তোলে বাংলার সরকার। যদিও ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’-এর দু’বছর আগে ২০১৬ সালে এ রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু করে মমতার সরকার। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে কোনও শর্ত নেই। রাজ্যে বসবাসকারী সব মানুষ তো বটেই, এমনকী ভিন রাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। পরিবার পিছু বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প নিয়ে গত ন’বছরে বড় কোনও অভিযোগ শোনা যায়নি। রাজ্যের প্রায় আড়াই কোটি পরিবার এই প্রকল্পের অধীনে রয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৭৫০টি নার্সিংহোমে বিনা পয়সায় চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে তাঁদের। ইতিমধ্যে বাংলার এই প্রকল্পে সুবিধা পেয়েছে ৬৫ লক্ষ পরিবার। এজন্য রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে ৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এখন প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার রোগী এই প্রকল্পে পরিষেবা পাচ্ছেন। প্রশ্ন হল, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি আয়ুষ্মান ভারতের রোগ সারানোর চেষ্টা করবেন?


