সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: সরকারি স্টিকার যুক্ত গাড়ির ধাক্কায় তিন জন জখম হয়েছেন। অভিযোগ, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। সোমবার বিকেলে এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল রায়গঞ্জ শহরের নেতাজি মোড়ে। অভিযুক্ত চালককে গাড়ি সহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেলে পুরনো জাতীয় সড়ক দিয়ে রায়গঞ্জের শিলিগুড়ি মোড় থেকে একটি গাড়ি নেতাজি মোড়ের দিকে আসছিল। সেই সময় গোয়ালপাড়ার কদমতলাতে ওই গাড়িটি পরপর একটি বাইক, স্কুটি ও সাইকেলের পিছনে ধাক্কা মারে। ঘটনায় তিন জন গুরুতরভাবে জখম হন। তাঁদেরকে উদ্ধার করে মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা গাড়িটির পিছু নিয়ে আটক করে। গাড়িটির সামনে ও পিছনে গভর্নমেন্ট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল লেখা রয়েছে। গোটা ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসিন্দারা। একজন সরকারি গাড়ির চালক কীভাবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালায়, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। অর্চনা মালাকার নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ওই গাড়ির চালক মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল। আমাদের পাড়ার কয়েকজনকে ধাক্কা মেরেছে। একজন সরকারি গাড়ির চালক কেন মদ খেয়ে এধরনের কাণ্ড ঘটাবে! অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। কদমতলার বাসিন্দা জখম স্কুটি চালক রীতেশ্বর বর্মন বলেন, আমি খুব ধীরগতিতে স্কুটি চালিয়ে ফিরছিলাম। সেই সময় ধাক্কা মারে গাড়িটি। চালক মদ খেয়ে ছিল। একটি বাইকে দু’জন ছিল। তাঁরা গুরুতর জখম হয়েছেন। ঘটনার পর অচৈতন্য অবস্থায় গাড়ির মধ্যেই শুয়ে থাকে ওই চালক। তার নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলে করুচিকর ভাষায় আক্রমণ করে। অন্যদিকে, পুলিসের নজরদারির মধ্যেও কীভাবে একজন সরকারি গাড়ির চালক এই কাণ্ড ঘটাল? পুলিসের যদিও সাফাই, কড়া নজরদারি চলছে, তারমঝেও কয়েকজন নিয়ম না মেনেই সরকারি গাড়ি চালাচ্ছে। এনিয়ে রায়গঞ্জ পুলিস জেলার সুপার সানা আখতার বলেন, আমরা সম্পূর্ণ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার পরই ঘটনাস্থলে যায় রায়গঞ্জ থানার পুলিস।



