Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রঘুনাথগঞ্জ ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় আত্মঘাতী যুবক

রঘুনাথগঞ্জ ঋণের টাকা শোধ করতে না পারায় আত্মঘাতী যুবক
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনায় রঘুনাথগঞ্জ থানার দফরপুর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম খাইরুল শেখ(২৯) তাঁর বাড়ি দফরপুর গ্রামেই। এদিন সন্ধ্যায় তাঁকে ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে পুলিস গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে জঙ্গিপুরে মহকুমা হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে মৃতের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে না পেরেই এমনটা করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, মানসিক অবসাদে এমনটা করে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, খাইরুল সাহেব একাধিক ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী সংস্থার কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়েছিলেন। কিস্তিতে একটি বাইকও কিনেছিলেন। পরে সেই বাইকটি বন্ধক রেখে এক যুবকের কাছে কয়েক হাজার টাকা ধার করেন। সবমিলিয়ে বাজারে ঋণের পরিমাণ বেড়ে কয়েক লক্ষ টাকায় পৌঁছায়। সেজন্য মাসে প্রায় ২৩ হাজার টাকা কিস্তি শোধ করতে হতো। দেনা শোধ করতে না পারায় পাওনাদারদের চাপ বাড়ছিল। এদিন সকালেও ঋণদানকারী সংস্থার একাধিক এজেন্ট বাড়িতে তাগাদা করতে আসে। তাঁদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়। সন্ধ্যা নাগাদ তিনি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। বহু ডাকাডাকির পরও দরজা খোলেনি। অবশেষে দরজা ভাঙলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। মৃতের দাদা মনিরুল শেখ বলেন, ভাই অনেক টাকা ঋণ করে ফেলেছিল। টাকা শোধ করতে না পারায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। 
এই ঘটনায় কিছু ক্ষুদ্র অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির উপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। কারণ তারা গ্রামের সাধারণ মানুষকে চড়া সুদে সহজেই ঋণ দেয়। তারপর টাকা ফেরতের জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। দফরপুরের বাসিন্দা নাসিরুল শেখ বলেন, সংস্থাগুলি ঋণ গ্রহীতার আর্থিক অবস্থা সঠিকভাবে খতিয়ে না দেখেই টাকা দেয়। কিস্তি দিতে না পারলেই সকাল সন্ধ্যা বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করে। অনেকেই সেই চাপ নিতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এটা বন্ধ হওয়া দরকার।
সম্পর্কিত সংবাদ