Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রঘুনাথগঞ্জে গড়ে উঠবে বায়োডাইভার্সিটি নেচার পার্ক

রঘুনাথগঞ্জে গড়ে উঠবে বায়োডাইভার্সিটি নেচার পার্ক
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: পদ্মা নদীর পাড়ে রঘুনাথগঞ্জের বাজিতপুর দ্বীপচরে গড়ে উঠতে চলেছে বায়োডাইভার্সিটি নেচার পার্ক। বুধবার সকালে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন প্রশাসনের কর্তারা। রঘুনাথগঞ্জ শহর থেকে কিছুটা দূরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদীর পাড়ে নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে পার্কটি গড়ে তোলা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রকৃতি থেকে কমে আসা দেশজ গাছগাছালি সেখানে লাগানো হবে। পাশের ঝিলটিকে সংস্কার করে বোটিং ও মৎস্য চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। তাতে কিছু ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থানও হবে। 
Advertisement
এদিন ওই এলাকা পরিদর্শন করেন রঘুনাথগঞ্জ-২ বিডিও দেবোত্তম সরকার, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মোমিনা খাতুন, আইএসপিজির আধিকারিক কার্তিকচন্দ্র শীল, বায়োডাইভার্সিটির মুর্শিদাবাদ জেলার ডিসি অমিত পাণ্ডে প্রমুখ। বিডিও বলেন, সরকারি জায়গায় নেচার পার্ক গড়ে তোলা হবে। সেখানে ৪০০-র বেশি দেশীয় গাছ লাগানো হবে। ঝিলে প্রতিবছর শীতের মরশুমে প্রচুর পরিযায়ী পাখি আসে। ঝিলটিকে সংস্কার করে বোটিং ও মৎস্য চাষের কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রকৃতির পাশাপাশি ছেলেদের কর্মসংস্থানও হবে। জঙ্গিপুর-লালগোলা রাজ্য সড়ক থেকে প্রায় এক কিমি দূরে রয়েছে বড়শিমুল গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে বাংলাদেশে চলে গিয়েছে পদ্মানদী। নদীর পাড়েই ১১৫নম্বর বাহুড়া বিএসএফ ক্যাম্প। নদীর অপর প্রান্তে বিস্তীর্ণ এই দ্বীপচরটির অবস্থান। পদ্মানদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা সরকারি ভেস্টেড ল্যান্ড হিসেবে পড়ে রয়েছে। বর্তমানে চর এলাকায় নানারকম সব্জি চাষ হয়। মূলত পটল, কলাই ও সর্ষে চাষ হয়ে থাকে। আরও কয়েকশো বিঘে চরা পড়ে রয়েছে। শান্ত নিরিবিলি এই এলাকাটিতেই গড়ে তোলা হবে নেচার পার্ক। পার্কে আম, জাম, লিচু, অর্জুন, নারকেল, হরীতকী ও সুপুরি গাছ লাগানো হবে। বিশেষ করে প্রকৃতি থেকে কমে যাওয়া গাছগুলিকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনা হবে। তাতে পাখিরা আশ্রয় ও খাদ্য পাবে।
পাশাপাশি ঝিলে মাছ চাষও করা হবে। বেশ কয়েক একর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ঝিলটিকে সংস্কার করে সেখানে বোটিংয়ের কথাও ভাবছে প্রশাসন। ঝিলটি পদ্মানদীর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় সারাবছরই পর্যাপ্ত জল থাকে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে মৎস্য চাষ ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সভাপতি মোমিনা খাতুন বলেন, এলাকাটি পরিদর্শন করেছি, সেখানে বন সৃজন করে নেচার পার্ক গড়ে তোলা হবে। অদূর ভবিষ্যতে মৎস্য চাষ ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে কর্ম সংস্থানও হবে।
প্রসঙ্গত, এই এলাকাটিতে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। পর্যটকদের থাকার জন্য বেশ কয়েকটি কটেজও তৈরি হয়। এলাকাটিকে সৌন্দর্যায়ন করা হয়। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত পর্যটন কেন্দ্রটি চালু হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে তা নষ্ট হতে বসেছে। সেখানেই এবার নেচার পার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।
সম্পর্কিত সংবাদ