দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: ‘আমার চেম্বারে আসুন’-সরকারি হাসপাতালে বহির্বিভাগে বসে রোগীকে পরামর্শ সরকারি বেতনপ্রাপ্ত চিকিৎসকের। গুরুতর এই অভিযোগ উঠেছে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের ঠিক বাইরে ওষুধের দোকানগুলিতে তাঁর প্রাভেট চেম্বার ‘প্রমোট’ করার জন্য সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ব্যবহার করছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, রোগীদের সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই হাসপাতাল সুপারের কাছে ওই চিকিৎসকের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
Advertisement
বছর দুয়েক রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসক। সপ্তাহে দু’দিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী দেখেন। গত সপ্তাহে ওই চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন কুপার্স ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা প্রবীর দাস(নাম পরিবর্তিত)। তাঁর অভিযোগ, ওই চিকিৎসক নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ লিখে দেওয়ার পর বাইরে কোন দোকান থেকে তা কিনতে হবে সেটাও আমাকে নির্দিষ্ট করে বলে দেন। ঠিক তারপরেই আমাকে বলেন, আমার সঙ্গে চেম্বারে দেখা করবেন। অর্থাৎ, সরকারি হাসপাতালে বসে তিনি নিজের প্রাইভেট চেম্বারে রোগীকে ডাকছেন। আমার প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার সামর্থ্য থাকলে সরকারি হাসপাতালে কি আসতাম? কিছু চিকিৎসক গরিব সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করছেন। অথচ গরিব মানুষ হাসপাতালে যায় কম পয়সায় অথবা বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাওয়ার জন্য। আমি গোটা ঘটনাটি লিখিত আকারে হাসপাতাল সুপারের কাছে জানিয়েছিলাম। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করার পরিবর্তে একজন চিকিৎসক বাইরে নিজের চেম্বারে রোগীদের ডাকছেন, এই বিষয়টি নিয়ে রুষ্ঠ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, ওই চিকিৎসক রোগীদের হাসপতালের বাইরে একটি ওষুধের দোকানে থাকা তাঁর চেম্বারে আসার জন্য বলেন। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অজানা ছিল, এমনটা নয়। তবে এতদিন সরাসরি কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তাই কোনও পদক্ষেপ করতে পারছিল না। এমনকী তদন্তও করতে পারছিল না। কিন্তু শনিবার লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। তারপরই মঙ্গলবার সরাসরি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি তৈরির নির্দেশ দেন হাসপাতালের সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী।
সুপার বলেন, আমি শনিবার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সোমবার একটি বৈঠকের জন্য আমি কৃষ্ণনগরে ছিলাম। মঙ্গলবার এসেই আমি পদক্ষেপ নিয়েছি। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যা রিপোর্ট দেবেন তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিজের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন ওই চিকিৎসক? মঙ্গলবার তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য বহির্বিভাগে গেলে দেখা যায়, তিনি এক রোগী ও তাঁর পরিজনের সঙ্গে রীতিমতো দুর্ব্যবহার করছেন। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে ওই চিকিৎসক বলেন, আমি কাউকে প্রাইভেট চেম্বারে আসার কথা বলিনি। তাঁকে বলেছিলাম, পরে বাইরে কোথাও দেখিয়ে নেবেন। সেটা আমার কাছে আসতে হবে, এভাবে বলিনি। আমার কথার অপব্যাখ্যা হচেছ।
সুপার বলেন, আমি শনিবার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সোমবার একটি বৈঠকের জন্য আমি কৃষ্ণনগরে ছিলাম। মঙ্গলবার এসেই আমি পদক্ষেপ নিয়েছি। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যা রিপোর্ট দেবেন তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিজের বিরুদ্ধে এহেন অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন ওই চিকিৎসক? মঙ্গলবার তাঁর বক্তব্য নেওয়ার জন্য বহির্বিভাগে গেলে দেখা যায়, তিনি এক রোগী ও তাঁর পরিজনের সঙ্গে রীতিমতো দুর্ব্যবহার করছেন। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে ওই চিকিৎসক বলেন, আমি কাউকে প্রাইভেট চেম্বারে আসার কথা বলিনি। তাঁকে বলেছিলাম, পরে বাইরে কোথাও দেখিয়ে নেবেন। সেটা আমার কাছে আসতে হবে, এভাবে বলিনি। আমার কথার অপব্যাখ্যা হচেছ।



