নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: যে বাঁধে স্নান করেন, সেই বাঁধের জল এবং যে বাড়িতে বসবাস করেন, সেই বাড়ির সামান্য মাটি নিয়ে গেলেই যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে দেবেন ওঝা। মুক্তি মিলবে সমস্ত রোগ জ্বালা থেকে। নিঃসন্তান দম্পতির কোল আলো করে আসবে ফুটফুটে সন্তান। বছরের পর বছর ধরে তন্ত্র-মন্ত্র করে এভাবেই নিজের ‘কারবার’ ফেঁদে বসেছিলেন পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের এক ওঝা। শনিবার ওই ওঝার পর্দাফাঁস করল ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সদস্যরা। ঘটনায় তাঁরা পুলিসের কাছে লিখিত অভিযোগও জানান। পুলিসের কাছে নিজের ভণ্ডামির কথা স্বীকার করেছেন ওই ওঝা!
Advertisement
স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার যুক্তিবাদী সমিতির কয়েকজন সদস্য নিজেদের নাম পরিচয় গোপন করে ওই ওঝার কাছে যান। কৌশল্যা মুর্মু নামের এক সদস্যের দুই সন্তান রয়েছে। তবে, তিনি নিজেকে নিঃসন্তান বলে পরিচয় দেন ওঝার কাছে। যদিও তারপর থেকে যা কিছু বলার, ওই ওঝাই বলতে থাকেন। কেন সন্তান হচ্ছে না, কী দোষ রয়েছে, এর প্রতিকার কী, কীভাবে তিনি বহু মহিলার কোলে সন্তান এনে দিয়েছেন সেইসব গল্পও শোনান। সেই ভিডিও রেকর্ড করেন আরএক সদস্য। তারপরেই তা নিয়ে সোজা হাজির হন পুলিসের কাছে। লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভণ্ডামির ভিডিও দেওয়া হয় পুলিসের কাছে।
যুক্তিবাদী সমিতির পুরুলিয়া জেলা সম্পদক মধুসূদন মাহাত বলেন, মন্ত্র-তন্ত্রের সাহায্যে রোগ সারানোর নাম করে দীর্ঘদিন ধরে ভণ্ডামি করে আসছেন ওই ওঝা। এক একজনের কাছ থেকে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন এসবের নাম করে। এসব আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা তথ্য প্রমাণ সহ ওই ওঝার বিরুদ্ধে পুলিসের কাছে অভিযোগ করেছি। সূত্রের খবর, এইপরেই ওই ওঝাকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিস। পুলিসি জেরায় নিজের ভণ্ডামির কথা সে স্বীকার করে। সেইসঙ্গে এসব আর করবে না বলে মুচলেকা দেয়। বান্দোয়ানের বাসিন্দা শেখ আলি হোসেন বলেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে এই কারবার ফেঁদে বসেছেন ওই ওঝা। এসব ভণ্ডামি করে করে নিজের গাড়ি, চার পাঁচটা দোতলা বাড়ি, কয়েক বিঘা জমি জায়গা কিনেছেন।
যুক্তিবাদী সমিতির পুরুলিয়া জেলা সম্পদক মধুসূদন মাহাত বলেন, মন্ত্র-তন্ত্রের সাহায্যে রোগ সারানোর নাম করে দীর্ঘদিন ধরে ভণ্ডামি করে আসছেন ওই ওঝা। এক একজনের কাছ থেকে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন এসবের নাম করে। এসব আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা তথ্য প্রমাণ সহ ওই ওঝার বিরুদ্ধে পুলিসের কাছে অভিযোগ করেছি। সূত্রের খবর, এইপরেই ওই ওঝাকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিস। পুলিসি জেরায় নিজের ভণ্ডামির কথা সে স্বীকার করে। সেইসঙ্গে এসব আর করবে না বলে মুচলেকা দেয়। বান্দোয়ানের বাসিন্দা শেখ আলি হোসেন বলেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে এই কারবার ফেঁদে বসেছেন ওই ওঝা। এসব ভণ্ডামি করে করে নিজের গাড়ি, চার পাঁচটা দোতলা বাড়ি, কয়েক বিঘা জমি জায়গা কিনেছেন।



