


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে ওই তিন পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি সহ একাধিক অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই অভয়া-কাণ্ড ফের যাবতীয় চর্চার শীর্ষে উঠে এসেছে। শুক্রবার পানিহাটির বিধায়ক তথা নিহত ডাক্তারি পড়ুয়ার মা রত্না দেবনাথ সরব হয়েছেন পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে রত্নাদেবী বলেন, ‘আমি সবসময় ন্যায়ের পথেই থেকেছি। শুধু আমার মেয়ের জন্য নয়, সমস্ত মেয়ের জন্য এই লড়াই আমি চালিয়ে যাব।’ তিনি এদিন ফের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে আমি দূর থেকে প্রণাম জানাই। উনি বলেছিলেন, ফাইল খোলা হবে। সেটাই হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকেও আমি অনেক ধন্যবাদ জানাই।’ মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে রত্নাদেবী বলেন, ‘ওই দিন আমরা যখন হাসপাতালে ঢুকেছিলাম, তখন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, সোফিয়া মল্লিক ও মুরলীধর শর্মা ভিতরে ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই অভীক, বিরুপাক্ষ, দেবাশিস সোম, প্রসূন চট্টোপাধ্যায়রা ঘোরাফেরা করছিলেন। বলা হচ্ছিল, এঁরা নাকি বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। পুলিশ অফিসার অভিষেক গুপ্তা আমাদের বাড়িতে টাকা নিয়ে এসেছিলেন। সেই টাকা কোথা থেকে এল? কে দিল? আমরা জানি না। যাঁরা সেদিন রাতে আমার মেয়ের সঙ্গে খেয়েছিলেন, তাঁরা এখনও সামনে আসেননি। তাঁদের আড়াল করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে সবকিছু ঘটেছে, তাতে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এখনও আসল মাথা ধরা পড়েনি। আমার মতে সেই আসল মাথা হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অনুমতি ছাড়া কিছু হয়নি। আমার মেয়েকে খুন থেকে শুরু করে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, এমনকি তড়িঘড়ি দাহ করে দেওয়া—সবটাই তাঁর কথায় হয়েছে।’
আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে পানিহাটির বিধায়ক আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মী ছিল। তাহলে কেন তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হল? কেন অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা? আশা করছি, এবার বিচার হবে। এখনও অনেক বড়ো বড়ো মাথাকে ধরা বাকি। বিনীত গোয়েল যখন মেয়ের দেহ দেখাতে সেমিনার হলে আমাদের নিয়ে গেলেন, তখন তিনি একটা ফোন এনে বললেন, সিএম কথা বলবেন। তাহলে কার নির্দেশে সব হচ্ছিল? শ্মশানেও দেখেছি, মেয়েকে চুল্লিতে ঢোকানোর পর নির্মল ঘোষ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের পিঠ চাপড়ে বলছেন, ওয়েল ডান বয়।’ রত্নাদেবীর স্বামী বলেন, ‘আমরা প্রথম দিন থেকেই লড়াই করে আসছি। বিচার পাওয়ার আশাতেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। যতদিন বিচার না পাব, ততদিন এই লড়াই চলবে।’