নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র আকার নিচ্ছে। সপ্তাহখানেক ধরে উত্তপ্ত রাজধানী দিল্লিও। আগামী শনিবার ককরোচ জনতা পার্টি-বামপন্থী ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ শুরু হবে যন্তরমন্তরে। তাই আগেভাগে জ্ঞানেশ কুমারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হল। বর্তমানে জেড প্লাস সুরক্ষা পান দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। এবার অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে তাঁর জন্য। সূত্রের খবর, জ্ঞানেশের দিল্লির বাড়ি ও নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন থাকছে। বৃহস্পতিবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে প্রশাসন। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় জ্ঞানেশ কুমারের বাসভবনের গেটে স্প্রে-পেন্ট দিয়ে ‘গদ্দার’, ‘ভোটচোর’ লিখে দিয়েছিল যুব কংগ্রেস কর্মীরা। তা থেকে শিক্ষা নিয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরাপত্তা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত।
তা সত্ত্বেও অবশ্য জ্ঞানেশ কুমারের বিড়ম্বনা কমছে না। এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার আরজি পেশ হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন আইন আনে কেন্দ্রের মোদি সরকার। এরপরেই জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসাবে নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আইনের বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি আবেদনকারী সুরি পায়ালার। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের হওয়া রিট পিটিশনে জ্ঞানেশ সহ বাকিদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিকে তিনি চ্যালেঞ্জ করেছেন। সুরি জানান, আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি শূন্যপদের জন্য সার্চ কমিটিকে পাঁচজনের প্যানেল তৈরি করতে হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চে দু’টি শূন্যপদের জন্য ১০ জনের পরিবর্তে ছ’জনের নাম সুপারিশ করেছিল কমিটি। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পিটিশন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নামের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিরোধী দলনেতাকে ২০০ জনের বেশি মানুষের তালিকা পাঠানো হয়। পরদিনই ছ’জনের নাম সুপারিশ করে সার্চ কমিটি। সেদিনই জ্ঞানেশ ও সুখবীরকে নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ‘প্যানেল’-এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুরি। পিটিশনে বারবার ২০২৩ সালের আইনের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। আইনের ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রার্থীদের ভোট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সুরির দাবি, তিনজন নির্বাচন কমিশনারের সেই অভিজ্ঞতা নেই। এহেন পরিস্থিতিতে সার্চ কমিটি ও সিলেকশন কমিটির নিয়োগ সংক্রান্ত নথি দেখানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।