নিজস্ব প্রতিনিধি, গঙ্গাসাগর: ২০২৫ সালে প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ আয়োজনের জন্য উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারকে ২১০০ কোটি টাকার বিশেষ অনুদান দিয়েছিল কেন্দ্র। সর্বাধিক পুণ্যার্থী আসার নিরিখে কুম্ভের পরেই রয়েছে গঙ্গাসাগর। কিন্তু এক্ষেত্রে এক পয়সাও অনুদান দেওয়া হয় না। এনিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠিতে অনুদানের পাশাপাশি গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলা ঘোষণার দাবিও তোলা হয়। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও নিরুত্তর কেন্দ্র। তা সত্ত্বেও মেলার সময় অস্থায়ীভাবে যাঁরা সাগরে দোকান দেন, তাঁদের থেকে পরিষেবা বাবদ খরচ তোলার পথে হাঁটেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কার্যত বিনা খরচে দোকান দেওয়া যাচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলায়। এমনকি, মুনাফার আশায় বিহার, ওড়িশা থেকে এসেও সাগর মেলায় ব্যবসা করছেন অনেকে।
কুম্ভ মেলায় সামান্য কচুরি-লাড্ডুর দোকানের জন্য ‘শপ-স্পেস’ বা জায়গা পেতে গুণতে হয়েছিল ৩০ লক্ষ টাকা। আর টেন্ডারের মাধ্যমে অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজকর্মের জন্য জায়গা বরাদ্দ করতে নেওয়া হয়েছিল দু’কোটি টাকা পর্যন্ত। সেই জায়গায় গঙ্গাসাগরের চিত্রটা অবাক করার মতো। স্থানীয় মানুষজন তো বটেই, পড়শি রাজ্য থেকেও অনেক এসে পসরা সাজিয়ে বসেছেন ইতিমধ্যেই। রাস্তার ধারে প্লাস্টিক পেতে সিঁদুর, মালা সহ পূজার সামগ্রী বিক্রি করতে বসেছেন তাঁরা। বিহারের দ্বারভাঙা থেকে আসা সত্তু সাউ এমনই একটি দোকান দিয়েছেন কপিলমুনির মন্দির লাগোয়া একটি রাস্তার ধারে। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তিনি একা নন। তাঁর গ্রামের ৬-৭ জন এসেছেন সাগরমেলায় ব্যবসার জন্য। তাঁরাই জানালেন, এখানে দোকান পেতে বসার জন্য কাউকে এক টাকাও দিতে হয়নি। তবে যাঁরা বাঁশ, ত্রিপল, কাপড় টাঙিয়ে দোকান দিয়েছেন, তাঁদের থেকে মেলার আগে একবারই সামান্য টাকা নেওয়া হয়েছে।
সাগরদ্বীপের নটেন্দ্রপুরের বাসিন্দা সুবিমল পাত্র সারা বছর মন্দিরের অদূরে কেক, চা, বিস্কুটের দোকান চালান। তিনি জানালেন, প্রতি বর্গফুটে প্রশাসনকে ১০ টাকা করে দিতে হয়। তাঁর ৯ ফুট লম্বা এবং ১০ ফুট চওড়া দোকানের জন্য দিতে হয় ৯০০ টাকা। জল, শৌচাগার, উন্নত রাস্তাঘাট ইত্যাদি পরিষেবার জন্য এই টাকা নেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এই বাবদ নেওয়া অর্থকে ‘ডিসিআর’ বলা হয় এখানে। দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, এ বছর এখনও ‘ডিসিআর’ নেওয়া হয়নি। তবে মেলার সময় যে পরিষেবা মেলে, সেই তুলনায় এই অর্থ অতি সামান্য বলেই মনে করছেন তাঁরা। ঝিনুকের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করছেন সতীশ ঘোষ। তিনি বলছিলেন, ‘এখন সারা বছরই পর্যটক, পুণ্যার্থীরা আসেন সাগরে। এবার তো শুনছি, মেলার সময় ১ কোটির বেশি ভিড় হবে। ফলে বেচাকেনা ভালো হবে বলেই আশা রাখছি।’