২০১১। বাংলা টেলিভিশনে এল উচ্ছল, প্রাণবন্ত এক নতুন মুখ। গ্রামীণ কথ্যভাষায় সহজ সরল গ্রামের মেয়ের ভূমিকায় দেখা দিল ‘বাহমণি সোরেন’। ‘ইষ্টি কুটুম’ ধারাবাহিকের ‘বাহামণি’ হয়ে উঠলেন অভিনেত্রী রণিতা দাস। অল্পদিনের মধ্যেই ‘বাহামণি’ সকলের ঘরের মেয়ে হয়ে গেল। রণিতার জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। হঠাৎই ছন্দপতন। আচমকা ধারাবাহিক ছাড়েন রণিতা। কিন্তু, দর্শকদের মনে আজও ‘বাহা’ হিসেবেই থেকে গিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই টানেই প্রায় দশ বছরেরও বেশি সময় পরে আবারও টেলিভিশনে ফিরলেন তিনি।
স্টার জলসার নতুন শো, ‘হচ্ছেটা কী!’ সেখানে ‘বাহা’ গোয়েন্দার ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে রণিতাকে। বাহাকে গোয়েন্দাগিরিতে যোগ্য সঙ্গত করতে হাজির তার ‘প্র্যাটি অ্যাসিস্ট্যান্ট’। এই ভূমিকায় রয়েছেন অরিন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাহা গোয়েন্দা এবং তার প্র্যাটি অ্যাসিস্ট্যান্ট জলসা পরিবারের সকলের হাঁড়ির খবর ফাঁস করছে। কিন্তু, রণিতার হাঁড়ির খবর ফাঁস করলে কেমন হবে? হাসতে হাসতে রণিতা বললেন, ‘আমার হাঁড়িতে ফাঁস করার মতো কোনও খবর নেই। বিরিয়ানির হাঁড়ির মতো আমার হাঁড়ি পুরো মুখ বন্ধ করে লাল কাপড় দিয়ে ঢাকা রয়েছে। কোনও খবর বাইরে আসবে না।’
এতদিন পর নিজের চেনা ছন্দে ফিরে স্বভাবতই নস্ট্যালজিক রণিতা। দর্শকদের ভালোবাসায় আপ্লুত অভিনেত্রীর কথায়, ‘প্রায় দশ বছর পর জলসা পরিবারের একটি অনুষ্ঠানে এসে দর্শকদের ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এত বছর আগের একটা চরিত্র এখনও যে দর্শকদের মনে এভাবে থেকে যাবে, ভাবতে পারিনি। তাই এই নতুন চিন্তা ভাবনার শুরু। সেই পুরনো বাহার টাচ দিয়ে আমি আবারও সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাব।’ তবে দর্শক আবারও বাহাকে ধারাবাহিকে দেখতে চান। আবারও ধারাবাহিকে ফিরবেন রণিতা? সেই আশা জিইয়ে রেখেই রণিতার উত্তর, ‘অল্প অল্প করে দেখা ভালো। পরে আবার হয়তো নতুন কিছুতে দেখা যেতে পারে।’
পূর্বাশা দাস