Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকায় ফিরুন’, কর্মীদের বার্তা মার্কিন কোম্পানিগুলির

এইচ-১ বি ভিসা নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার এই ভিসার জন্য এককালীন ৮৯ লক্ষ টাকা ফি দিতে হবে।

‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকায় ফিরুন’, কর্মীদের বার্তা মার্কিন কোম্পানিগুলির
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:০৯
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি:  এইচ-১ বি ভিসা নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার এই ভিসার জন্য এককালীন ৮৯ লক্ষ টাকা ফি দিতে হবে। রবিবার থেকেই কার্যকর হবে এই বিধি। এর জেরে আতঙ্কিত সেদেশে বসবাসকারী বিদেশি কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার বাইরে থাকা কর্মীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসতে বলল মেটা, মাইক্রোসফ্ট, জেপি মর্গ্যান বা অ্যামাজনের মতো মার্কিন কোম্পানিগুলি। আমেরিকায় আসার ক্ষেত্রে যাতে ওই কর্মীদের কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্যই এই কৌশল। অন্য কর্মীদেরও অন্তত দুই সপ্তাহ আমেরিকা ছাড়তে নিষেধ করেছে সংস্থাগুলি। এব্যাপারে সংস্থাগুলির সর্বোচ্চ সংস্থা ন্যাসকম সদস্য সংস্থাগুলিকে এমনই পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্তা বলেন, যে সমস্ত এইচ-১বি ভিসাধারী এখন বাইরে রয়েছেন, তাঁদের রবিবারের মধ্যে আমেরিকায় ফেরার বা ১ লক্ষ ডলার দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

Advertisement

মার্কিন মুলুকে চাকরির জন্য ভারতীয়দের বড় ভরসা এইচ-১বি ভিসা। কিন্তু সেই ভিসা ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আমেরিকায় চাকরির দরজা কি তাহলে চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে? বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এখনই হতাশ হতে চাইছেন না। তাঁদের মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের জেরে ভারতীয় কর্মীরা যে গণহারে ছাঁটাই হবেন, এমনটা নয়। তবে তাঁদের চাকরি ও কেরিয়ারে উন্নতির সুযোগ যে ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে আসবে, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, ভিসা সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়েই দেশেই ক্ষোভের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তির দাবি, দক্ষ কর্মীদের আমেরিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ট্রাম্প বেপরোয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই কর্মীরাই এতদিন লক্ষ লক্ষ মার্কিনদের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। 
মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ভারতীয় এইচ-১বি ভিসা পেয়েছিলেন। যার মধ্যে ৬৩ শতাংশই তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালের প্রথম ৬ মাসেই অ্যামাজন ও তার সহযোগী সংস্থা ১২ হাজার ভারতীয়কে এইচ-১বি ভিসায় আমেরিকায় নিয়ে আসার অনুমতি পেয়েছে। মাইক্রোসফ্ট ও মেটাও একইভাবে ওই ভিসার সাহায্যে ৫ হাজার কর্মীকে মার্কিন মুলুকে চাকরি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এতদিন এই দক্ষ কর্মীদের আমেরিকায় আনার জন্য এইচ-১বি ভিসার টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাই মিটিয়ে দিত। কিন্তু ফি একধাক্কায় এতটা বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাগুলি নতুন ভিসার জন্য বা পুরনো ভিসা পুনর্নবীকরণের জন্য টাকা দিতে রাজি নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের নিযুক্তির সংখ্যা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, এই প্রকল্প রূপায়িত হলে ১০ হাজার কোটি ডলার মার্কিন কোষাগারে জমা পড়বে। 
এদিকে, নীতি আয়োগের প্রাক্তন সিইও অমিতাভ কান্ত অবশ্য দাবি করেছেন, আমেরিকার সিদ্ধান্তে ভারতের তেমন কোনও ক্ষতি হবে না। বরং ভারতের সেরা চিকিত্সক, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকরা দেশের উন্নতিতে অবদান রাখতে পারবেন।
এদিকে, শুক্রবার থেকেই গোল্ড ও প্ল্যাটিনাম কার্ড ভিসা চালু করেছেন ট্রাম্প। আমেরিকায় বসবাসে ইচ্ছুক কোনও ব্যক্তি ১০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ কোটি টাকা) খরচ করলে গোল্ড কার্ড ভিসা পাবেন। এই ভিসার সাহায্যে কেউ মার্কিন সংস্থার উচ্চপদে কাজ করতে পারবেন। অন্যদিকে, ৫০ লক্ষ ডলার (প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা) খরচ করলে মিলবে প্ল্যাটিনাম কার্ড ভিসা। এই ভিসায় কোনও ব্যক্তি আমেরিকায় ২৭০ দিন থাকতে পারবেন।  এছাড়া ২০ লক্ষ ডলারের বিনিময়ে কর্পোরেট গোল্ড কার্ড ভিসাও চালু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। - ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ