ঘরের ভিতর কিংবা বাইরে, নরম গদি ও কুশন ঠাসা দোলনা ও হ্যামক বদলে দেয় ঘরের মেজাজ। শৌখিনতার সঙ্গে রুচি মিলিয়ে বেছে নিন পকেটসই দোলনা।
ঘরের ভিতর কিংবা বাইরে, নরম গদি ও কুশন ঠাসা দোলনা ও হ্যামক বদলে দেয় ঘরের মেজাজ। শৌখিনতার সঙ্গে রুচি মিলিয়ে বেছে নিন পকেটসই দোলনা।
আদুরে বিকেল কিংবা আলস্যের ভরদুপুর। রোজের ছুটোছুটিতে যদি দু’দণ্ড সময় মিললই, তাহলে সে সময়টুকুর আমেজ উপভোগ করুন রাজার মতো। জীবনের নাগরদোলায় তো রোজই চড়েন, সেখানে কখনও ওঠা, কখনও নামা। কিন্তু একঘেয়ে এই নাগরদোলা থেকে খানিক ছুটি পেতে ঘরেই রাখতে পারেন দোলনার রাজপাট।
দোলনায় গা এলিয়ে পছন্দের বই পড়া বা কফি মাগে চুমুক, বিলাসিতার এমন আলগা মোড়ককে রোজনামচার অঙ্গ করতে কে না চায়! শিশুর জন্মের পর বহু বাড়িতেই তার জন্য আলাদা করে দোলনার ব্যবস্থা করা হয়। কান্নার দমক এলেই বাড়ির বড়রা খুদেকে চমকে দেন দোলনায় শুইয়ে। মৃদু দুলুনিতে শিশু বিভোর হয়ে জগৎ সম্পর্কে নানা কল্পনা করে হয়তো বা! তবে কান্না থেমে যায় বটে।
বড় হওয়ার পরেও এই দুলুনির আমেজ মনের মধ্যে কোনও এক তল খুঁজে ঠিকই থেকে যায়। তাই বোধহয়, কোনও বিনোদনে পার্ক বা উদ্যানে বেড়াতে গেলে বড়রাও একটু দোলনায় দুলে নেন। এবার সেই ইচ্ছেপূরণ হতে পারে নিজের বাড়িতেই। অন্দরসাজে যদি দোলনা ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে আরামের পাশাপাশি ঘরের সাজেও আসবে ভোলবদল। একটা সময় মনে করা হতো, ছাদে বা বাড়ির চারপাশে অনেকটা খোলা জায়গা পেলে তবেই বুঝি দোলনাবিলাস সম্ভব! কিন্তু আধুনিক ইন্টিরিয়র ডিজাইনিংয়ের পাঠ বলছে, এক চিলতে জায়গা থাকলেও সেখানে রাখা যায় দোলনা।
কোথায় কেমন দোলনা?
দোলনা রাখার জন্য প্রথমেই নির্ধারণ করুন জায়গা। আজকাল নানা মাপে, নানা ধরনের দোলনা পাওয়া যায়। তার উপকরণও বিভিন্ন। তাই জায়গা যত ছোটই হোক, নিরাশ হওয়ার কারণ নেই।
• বহু শৌখিন বাড়ির ডাইনিংয়ের এক চিলতে জায়গায় দোলনা টাঙানো থাকে। আপনিও তেমনটা করতেই পারেন। সেক্ষেত্রে দু’জন বা তিনজন বসতে পারে এমন স্ট্যান্ডিং দোলনা পছন্দ করুন। স্ট্যান্ডিং দোলনা কিছুটা আসবাবের মতোই জায়গা জুড়ে থাকে, একথা ঠিক। জায়গার আরও আশ্রয় চাইলে স্যুইং দোলনা রাখুন। তার উপর সুন্দর গদি ও কুশন দিয়ে সাজিয়ে রাখলে অতিথিও এই শৌখিনতাকে সম্মান করবেন। গদি ও কুশন বেছে নিন ঘরের দেওয়াল ও পর্দার রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। আজকাল মোটা দড়ি ও বেতের মিশেলে হাতে বোনা টেকসই দোলনা পাওয়া যায়। ঘরের ভিতরের জন্য সে দোলনাই ভালো।
• এবার চলুন বাড়ির আরও গভীরে যাই। গৃহস্থের বিশ্রামকক্ষ সাধারণত তার শোওয়ার ঘর। অনেক বেশি আসবাবে ঠাসা না হলে এখানে সিলিং থেকে ঝুলিয়ে দিতে পারেন একজন বসার মতো দোলনা। এই দোলনাগুলি মাটি থেকে খুব উপরে রাখবেন না। এমন উচ্চতায় রাখুন, যাতে হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেও ব্যথা পাওয়ার শঙ্কা অনেক কম থাকে। এক্ষেত্রেও দোলনার নীচে মোটা ও নকশাদার গদি পেতে রাখা। বাড়ির ভিতরের দোলনা সামনে পিছনে অনেক দূর না ওঠাই ভালো।
• বাড়ির ভিতরে যদি একটি দোলনা খাটানোর কথাও ওঠে, তাহলে প্রায় প্রত্যেকেই চাইবেন, শিশুর ঘরেই থাক সেই বাহারি দোলা। তবে শিশুর ঘরের দোলনা রাখতে হবে তার বয়স বুঝে। একেবারে দুধের শিশুর জন্য স্ট্যান্ডিং কটের মতো দোলনাই ভালো। স্কুলপড়ুয়া শিশুর জন্য আসবাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দোলনা রাখুন। যদি শিশুর ঘরে কাঠের আসবাব বেশি থাকে, তাহলে লম্বা করে ঝোলানো বেতের দোলনা দিতে পারেন। রট আয়রনের দোলনাও এই ঘরের উপযোগী। তবে যে দোলনাই রাখুন তা যেন মাটির সামান্য উপরে হয়। শিশুর পা যেন দোলনায় বসেও মাটিতে পৌঁছতে পারে, এদিকে খেয়াল রাখবেন। শিশুর দোলনায় পোক্ত ও সুতির কাপড়ের গদি রাখুন ও নীচে মোটা নকশাদার গদি পাতা থাক। এই দোলনা যেন সামনে বা পিছনেও বেশি দূর যেতে না পারে সে খেয়াল রাখতে হবে। তাতে শিশু দোলনাকে অনেক উঁচুতে তুলতে পারবে না, ফলে নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
• শিশুর ঘরের মতোই বয়স্কদের ঘরে দোলনা টাঙালে সেখানেও সচেতন থাকুন। দোলনায় নামা-ওঠা করতে যেন অসুবিধা না হয়। নিরাপত্তার জন্য ভারী কাঠের বা রট আয়রনের স্ট্যান্ডিং দোলনা রাখুন এ ঘরে। মেঝে থেকে সামান্য উঁচুতে দোলনা সেট করে সুতির নকশাদার ফ্যাব্রিকের গদি ও কুশন সেট করে দিন।
• ঘর ছেড়ে এবার আসুন একটু বারান্দায় বসি। বারান্দা বা খোলা জায়গায় রোদ-ঝড়-বৃষ্টির ছাঁট আসবে। তাই এখানে এমন দোলনা রাখুন, যা জল পড়ে সহজে নষ্ট হবে না। বারান্দা বা লন-এর জন্য সবচেয়ে উপযোগী হ্যামক দোলনা। দু’দিকে পোক্ত দু’টি আংটায় বেঁধে বসিয়ে দিন রেডিমেড হ্যামক। বাগানে দোলনা বসাতে চাইলেও হ্যামক ভালো বিকল্প। গাছের পোক্ত ডালে হ্যামক বেঁধে বিকেল কাটানোর স্ফূর্তিই আলাদা। তাছাড়া স্ট্যান্ডিং দোলনাও ভাবতে পারেন এই জায়গাগুলির জন্য। লোহাতেও জং ধরতে পারে, তাই রট আয়রন বা স্টিলের রড থেকে ঝোলানো দোলনা হলে সবচেয়ে ভালো।
দোলনাবিলাস তখনই সম্ভব, যখন ঘরোয়া আড্ডা বা নিভৃত সময়যাপন আপনার পছন্দের তালিকায় থাকবে। তেমন শৌখিনতা মেজাজ জুড়ে থাকলে এভাবেই দোলনায় সাজিয়ে তুলুন অন্দর।
মনীষা মুখোপাধ্যায়