নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ফের ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণা! এবার প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ৫ লক্ষ টাকা খোয়ালেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী! শুধু নগদ হাতিয়েই ক্ষান্ত হয়নি প্রতারকরা। আরও টাকার চাপ দিতে থাকে তারা। অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় তাঁকে গোল্ড লোন নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো গোল্ড লোন নিতে তিনি ব্যাঙ্কে চলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় তাঁর মেয়ে তাঁকে ফোন করায় আরও বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। বাবার কথা শুনেই মেয়ে বুঝতে পারেন, তিনি ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়েছেন। ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ দিয়ে বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ব্যক্তির বয়স ৭৪ বছর। বাগুইআটি থানা এলাকাতেই থাকেন। তিনি জটিল স্নায়ুরোগে ভুগছেন দীর্ঘদিন। ৮ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ছ’দিন প্রতারকরা তাঁকে কার্যত সম্মোহিত করে ফেলেছিল। গত ৮ আগস্ট তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। টেলিকম ডিপার্টমেন্টের নাম করে তাঁকে বলা হয়, দু’ঘণ্টার মধ্যে তাঁর ফোন বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর তাঁর কল অন্য একজনকে ‘ট্রান্সফার’ করা হয়। সে নিজেকে ডেটা প্রোটেকশন বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেয়। আরও জানায়, মুম্বইয়ের কোলাবা থানায় ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর নামে একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাঁর মোবাইল নম্বর থেকে পর্ন ভিডিও এবং আপত্তিকর বিষয় ছড়ানো হচ্ছে বলে সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপেরও অভিযোগ আছে বলে জানায় জালিয়াতরা। তদন্তের জন্য বৃদ্ধকে কোলাবা থানায় ডেকে পাঠানো হয়। তিনি বয়সের কারণে যেতে পারবেন না বলে জানান। তখন প্রতারকরা তাঁকে সুপ্রিম কোর্ট, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের চিঠি, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং মুম্বই পুলিসের বিভিন্ন ভুয়ো নথিপত্র পাঠায়, যেখানে তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। তারপরই হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে পুলিস আধিকারিক সেজে প্রতারকরা তাঁর সঙ্গে কথা বলে। ১২ আগস্ট বৃদ্ধ আরটিজিএসের মাধ্যমে ৫ লক্ষ টাকা দেন। প্রতারকরা তাঁকে গোল্ড লোন নিয়ে আরও টাকা দিতে বলে। তিনি তেঘরিয়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে যান। সেখানে দেরি হওয়ায় প্রতারকরা তাঁকে একটি বেসরকারি গোল্ড লোন সংস্থায় যেতে বলে। তখনই তাঁর মেয়ে মানালি থেকে ফোন করেন বাবাকে। কিছুক্ষণ কথা বলেই বুঝতে পারেন, তাঁর বাবা ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়েছেন। পুলিস বলছে, ওই সময় ওঁর মেয়ে ফোন না করলে উনি হয়তো গোল্ড লোনের টাকাও দিয়ে ফেলতেন।