নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৬ বছর আগে করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার খরচ কমানোর জন্য একগুচ্ছ বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল মোটর সাইকেল বা কম্পিউটার কেনার জন্য সরকারি কর্মীরা কোনো অগ্রিম টাকা নিতে পারবেন না। এতদিনে সেই বিধিনিষেধ আংশিকভাবে তোলা হল। রাজ্য অর্থদপ্তর সম্প্রতি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, মোটর সাইকেল কেনার জন্য অগ্রিম নেওয়ার উপর বিধিনিষেধ আর থাকবে না। তবে ২০২০ সালের ২ এপ্রিল জারি করা নির্দেশিকাটিতে একই সঙ্গে কম্পিউটার কেনাসহ আরও কিছু বিষয়ের উপর যে আর্থিক বিধিনিষেধ ছিল, তা কার্যকর থাকবে বলে অর্থদপ্তর জানিয়েছে। করোনা-কালের নির্দেশিকাতে আরও বলা হয়েছিল, জিপিএফ তহবিল থেকে কর্মীরা টাকা তুলতে পারবেন তিনটি জরুরি ক্ষেত্রে। চিকিৎসা, পড়াশোনা ও বিবাহ। জিপিএফ থেকে টাকা তোলার বিষয়টি এখন একটা বড়ো ইস্যু হয়ে আছে। কারণ, পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ’র একাংশ (২০১৬-১৯ পর্যন্ত) রাজ্য সরকারের গ্রুপ এ, বি এবং সি শ্রেণির কর্মীদের জিপিএফ তহবিলে জমা পড়েছে। ভোটের আগে রাজ্য সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, ওই টাকা দু’বছরের মধ্যে তোলা যাবে না। এই বিষয়টি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানির সময় উঠলে বিচারপতিরা অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তাঁদের নির্দেশে এরকম কিছু ছিল না। পরবর্তী শুনানির সময় রাজ্যকে এর ব্যাখা দিতে হতে পারে বলে মনে করছে আইনজ্ঞ মহল। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কর্মী সংগঠনের বৈঠকে পিএফ তহবিলে জমা পড়া বকেয়া ডিএর টাকা তোলার প্রসঙ্গউঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী এর জন্য চলতি আর্থিক বছর পর্যন্ত সময় চান। তার মধ্যেই দেখা যায়, কোনো প্রয়োজনে জিপিএফ তহবিল থেকে টাকা তোলার উপর আরোপিত বিধিনিষেধ এখনও রয়েছে। করোনাকালে জারি করা নির্দেশিকায় সর্বভারতীয় ক্যাডারের আধিকারিকদের বাড়ি তৈরির জন্য অগ্রিম নেওয়াসহ আরও অনেকগুলি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি খরচেও রাশ টানা হয়েছিল।



