Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটাধিকার ফেরাও, লাইনে সরব নারীশক্তি

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প চালু করে বাংলার মেয়েদের সম্মান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলারা দু’হাত উজাড় করে শাসক দলকে সমর্থন করেছিল।

ভোটাধিকার ফেরাও, লাইনে সরব নারীশক্তি
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প চালু করে বাংলার মেয়েদের সম্মান দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহিলারা দু’হাত উজাড় করে শাসক দলকে সমর্থন করেছিল। এবার কমিশনের এসআইআরের ধাক্কায় সেই মহিলাদের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। ভোটাধিকার ফেরানোর জন্য লাইনে  দাঁড়িয়ে আর্তনাদ করছেন সাবিনা বিবি, লায়লা খাতুনরা। অপমানের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। সেই আওয়াজ অবশ্য বর্ধমানের রাজবাড়ির লাইন থেকে অফিসের ভিতরে পৌঁছচ্ছিল না। তীব্র গরমে কেউ ৪০, আবার কেউ ৫০ কিলিমোটার দূর থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কেউ এসেছেন নিজের জন্য আবার কেউ ৭২ বছরের মায়ের জন্য। শেষপর্যন্ত কী হবে তা তাঁদের জানা নেই। দিনের শেষে একরাশ আতঙ্ক নিয়েই তাঁরা বাড়ি ফিরছেন।

Advertisement

মন্তেশ্বর থেকে এসে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন লায়লা খাতুন। তিনি বলেন, বিজেপির জন্যই এমনটা হয়েছে। ওদের নেতারাই বারবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হুংকার দিয়েছিল। সেটাই হচ্ছে। মেয়েদের নামই বেশি সংখ্যায় বাদ দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের প্রতি কেন ওদের এত রাগ বুঝতে পারছি না। সাবিনা বিবি বলেন, ঘরের সব কাজ ছেড়ে সেই ভোরে বাস ধরতে হয়েছিল। বারবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমাদের পরিবারের কেউই অন্য দেশ থেকে আসেনি। তারপরও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হলো। সৈয়দ মহম্মদ আলি বলেন, এখন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিচ্ছে। এরপর হয়তো আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেবে। কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষদের জন্য কিছু করছে না। তারা কর্মসংস্থানের দিশা দেখাচ্ছে না। শুধু বারবার হয়রান করছে। এই নিয়ে আমি তিনবার লাইনে দাড়ালাম। এরপর আর কতবার দাঁড়াতে হবে কেউ জানে না। আতঙ্কে মানুষের রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। অনেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছে। এর দায় বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।
তৃণমূল নেত্রী মিঠু মাজি বলেন, বিজেপি ভাবছে এভাবে মহিলাদের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতায় আসবে। আসলে ওরা এরাজ্যের নারী শক্তির ক্ষমতা জানে না। এভাবে অপমান করার খেসারত বাংলার মা বোনেরা বিজেপিকে ইভিএমে দেবে। এবার বিজেপির ফল আরও খারাপ হবে। মেয়েরা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, যাদের কাছে বৈধ নথি রয়েছে তাদের কারও নাম বাদ গেলে আমরাও আন্দোলন করব। যাদের বৈধ নথি নেই তাদের নাম বাদ তো যাবেই। তবে এখানে বিজেপির কিছু করার নেই। নির্বাচন কমিশন সম্পুর্ণ স্বাধীন একটি সংস্থা। তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ