Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রচার করেই দায়িত্ব শেষ, প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে উদাসীন সিউড়ি পুরসভা

প্রচার করেই দায়িত্ব শেষ, প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে উদাসীন সিউড়ি পুরসভা
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নিষেধাজ্ঞাই সার। একপ্রকার শীতঘুমে সিউড়ি পুরসভা কর্তৃপক্ষ! ফলত প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। এখনও শহরের টিনবাজার, কোর্টবাজার, বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া বাজার সহ নানা এলাকায় দেদার ক্যারিব্যাগের ব্যবহার চলছে। একপ্রকার নিয়ন্ত্রণহীনভাবেই ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বাড়তে থাকায় পরিবেশ দূষণও যথেচ্ছ হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন সচেতন নাগরিকদের একাংশ। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আমজনতা পুরসভা কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ উঠছে, পুর কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রচার ও অভিযান চালিয়েই দায় সারতে ব্যস্ত। আদৌ প্রচার ও অভিযানের সফলতা মিলল কি না না তা নিয়ে চিন্তিত নয় কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে একযোগে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দাবি, পুরসভার তরফে লাগাতার অভিযান চালানো প্রয়োজন। 

Advertisement

পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার রুখতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সচেতনতার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। এবার পুরসভার তরফে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ ব্যবহার বন্ধে একসময় পুরসভা আসরে নেমেছিল। যদিও অভিযোগ, শীত শেষেও পুরসভা একপ্রকার শীতঘুমে। পুরসভার সদর গেটের সামনে থেকে শুরু করে শহরের নানা প্রান্তে দেদারে প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের ব্যবহার হলেও কর্তৃপক্ষের নজরে এখনও তা আসেনি। এই পরিস্থিতিতে একটা সময় জেলা পুলিসের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের তরফে অভিযান চালানো হয়েছিল। একাধিক বাজারে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু পরিমাণ প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। যদিও সেই অভিযান দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় তার প্রভাবও ক্ষণস্থায়ী হয়েছে। ফলত প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ ব্যবহারে কোনও প্রকার ভাটা আজও পড়েনি। ঘটনায় পুরসভার ভূমিকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, ক্যারিব্যাগের ব্যবহার রুখতে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ আগামীতেও অভিযানে নামার কথা স্পষ্ট করেছে। শহরের ফল ব্যবসায়ী ননীগোপাল দাস বলেন, আমাদের জরিমানা করার আগে পুরসভার উচিত প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের আমদানি বন্ধ করা। শহরের ক্যারিব্যাগ পাওয়া না গেলে আমরাও ব্যবহার করব না। তাঁর আরও সংযোজন, এর আগে পুরসভার অভিযানের পর ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু কী লাভ হল? সবাই তো ব্যবহার করছে। সবাই ব্যবহার ছেড়ে দিলে আমিও ক্যারিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ করে দেব। অন্যদিকে, প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ হাতে বাজার ফেরত নওরতন মল্লিক বলেন, পুরসভাকে আরও উদ্যোগী হতে হবে। শুধু মুখে বললে হয় না। আমরা বহু সময় ব্যাগ নিয়ে বের হলেও ব্যবসায়ীরা ক্যারিব্যাগ ধরিয়ে দেন। শহরের ক্যারিব্যাগের আমদানি বন্ধ হলে এই সমস্যা চিরতরে মিটে যাবে। 
পুরসভার ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে শহরের বাসিন্দা বরুণকুমার দাস বলেন, প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগের ব্যবহার রুখতে মাঝেমধ্যে পুরসভা অভিযান চালায়। ব্যবসায়ীরা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ফলত বর্তমান সময়ে পুরসভা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লুকোচুরি খেলা চলছে। এজন্য পুরসভার উদাসীনতা দায়ী। আমার মনে হয়, পুরসভার তরফে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো প্রয়োজন। তবেই সম্পূর্ণভাবে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের ব্যবহার নির্মূল করা সম্ভব হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ