Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্থূলতা নিয়ে কটাক্ষের জবাব জেদেই, আঠারো কেজি ওজন ঝরিয়ে বিএসএফে যোগ ইন্দ্রাণীর

কথায় বলে ব্যর্থতাই সাফল্যের সিঁড়ি।  না হলে স্থুলতার কারণে নানা গঞ্জনা ও অপমান সহ্য করেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি সাঁতুড়ি ব্লকের কুলাই গ্রামের মেয়ে ইন্দ্রাণী।

স্থূলতা নিয়ে কটাক্ষের জবাব জেদেই, আঠারো কেজি ওজন ঝরিয়ে বিএসএফে যোগ ইন্দ্রাণীর
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: কথায় বলে ব্যর্থতাই সাফল্যের সিঁড়ি।  না হলে স্থুলতার কারণে নানা গঞ্জনা ও অপমান সহ্য করেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি সাঁতুড়ি ব্লকের কুলাই গ্রামের মেয়ে ইন্দ্রাণী। কঠোর পরিশ্রম ও সবুরে ফলেছে মেওয়া। এক বছরে ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে বিএসএফে নিয়োগ পেয়েছেন ওই মেয়ে।

Advertisement

সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন ওই মেয়ে। সেই লক্ষ্যে দাদার সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে গত বছর পাশের পরেও শারীরিক স্থূলতার জন্য নিয়োগ পাননি। কিন্তু হাল ছাড়েননি ইন্দ্রাণী। এক বছর ধরে কঠিন শারীরিক পরিশ্রম করেছেন। কমিয়ে দিয়েছিলেন খাওয়া-দাওয়া। অদম্য জেদকে হাতিয়ার করে গত বারো মাসে নিজের ওজন ১৮ কেজি কমিয়ে আনায় শেষমেশ খুলেছে বিএসএফে নিয়োগের দরজা।

অন্যদিকে, ওই গ্রামেরই যুবক আকাশ হাঁড়ি একাধিকবার সফল হওয়ার পরেও শেষ পর্যায়ে নিয়োগ পাননি। কখনো মেডিকেল আবার কখনো দৌড়ে আটকে গিয়েছিলেন আকাশ। বয়সের দিক থেকে এবছরই ছিল তাঁর শেষ সুযোগ। ফলে শেষ সুযোগেই বাজিমাত করেছেন জেদি আকাশ। এই বছরই কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীতে নিয়োগ পেলেন।

শুধু ইন্দ্রাণী, আকাশ নয়, গত তিন বছরে ধাপে ধাপে কুলাই গ্রামের সাত জন কেন্দ্রীয় বাহিনীতে চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই বর্তমানে গ্রামের একাধিক যুবক, যুবতী নিয়মিত শরীর চর্চা করে চলেছেন। বর্তমানে কুলাই গ্রাম আর্মি গ্রাম নামে সাঁতুড়ি ব্লকে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের জন্য যাঁরা নিজেদের নিয়োজিত করেছেন সেসব যুবক, যুবতীকে গ্রামবাসী ও স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষিকাদের তরফ থেকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দ্রানীর দাদা রবি সাউ গত বছর কেন্দ্রীয় বাহিনীতে চাকরি পান। বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত রয়েছেন। দাদাই বোনকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে গিয়েছেন। পাশাপাশি কুলাই গ্রামের অভিজিৎ সাউ সিআইএসএফে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁরও ভাই বিশ্বজিৎ গতবছর সিআইএসএফে চাকরি পান। তিনি বর্তমানে ছত্রিশগড়ে কর্মরত। এছাড়া কয়েল সাউ, গণেশ সাউ কেন্দ্রীয় বাহিনীতে যোগদান করেছেন।

সাফল্যের সিঁড়িতে পা রাখা ইন্দ্রানী বলেন, গত বছর দাদা ও বান্ধবীর সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছিলাম। কিন্তু ৭৩ কেজি ওজন থাকায় মেডিকেলে আটকে যাই। দাদা ও বান্ধবী দু’জনেই চাকরি পেয়ে যায়। কেন্দ্রীয় ফোর্সে চাকরি পেতে হবে ছোট থেকে সেই লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছি। তাই নিজেকে সব রকমভাবে প্রস্তুত করার জন্য মাঠে নেমে পড়ি। ভাত খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। এক বছরে ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে শেষমেশ নিয়োগ পেয়েছি।

আরএক সফল আকাশের কথায়, প্রায় আটবার পরীক্ষা দিয়ে অসফল হয়েছি। একের পর এক বন্ধুরা চাকরি পেয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ভেঙে পড়িনি। এবারেই ছিল আমার শেষ বছর। তাই সব জেদকে কাজে লাগিয়ে মাঠে নেমে পড়ি।

সিআইএসএফে যোগ দেওয়া অভিজিৎ বলেন, ভাই গত বছর কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীতে নিয়োগ পায়। তাই বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে প্রতিদিন ভোরে উঠে নিয়মিত মাঠ করতাম। তামিলনাড়ুতে যোগদানের জন্য জানানো হয়েছে।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ