সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: শনিবার কুমারগ্রাম ব্লকের কামাখ্যাগুড়িতে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর কামাখ্যাগুড়িতে রাজ্য সড়কের দু’পাশে থাকা পুরনো গাছগুলি নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে দাবি উঠেছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের। জানা গিয়েছে, কামাখ্যাগুড়ি কলেজ হল্ট, গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে বেশকিছু পুরনো বড় গাছ রয়েছে। বাসিন্দারা পুরনো ওই গাছগুলি নিয়ে আতঙ্কিত। তাঁরা চাইছেন, পুরনো গাছগুলি কেটে ওইসব স্থানে নতুন করে বৃক্ষরোপণ করা হোক। উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে কালবৈশাখী ঝড়ে কলেজ হল্টে একটি বিশালাকার গাছ গাড়ির উপর পড়ে মৃত্যু হয় আলিপুরদুয়ারের অরবিন্দনগরের বাসিন্দা, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা বনি বোস দেবের (৩৭)। ওই মর্মান্তিক ঘটনার যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তাই পুরনো গাছগুলি কেটে ফেলার দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা।
কামাখ্যাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক প্রাণকৃষ্ণ সাহা বলেন, রাজ্য সড়কের দু’ধারে বেশকিছু প্রাচীন গাছ রয়েছে। প্রশাসন সেগুলি কেটে নতুন করে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিক। কামাখ্যাগুড়ির বাসিন্দা শ্যামল ঘোষ বলেন, শনিবার আমাদের এলাকায় খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ওই ঘটনার পর আমরা সবাই আতঙ্কিত রয়েছি। রাস্তার পাশে থাকা পুরনো গাছগুলি কেটে ফেলার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
কামাখ্যাগুড়ি-২ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রসূন দত্ত বলেন, এটা সত্যি যে রাস্তার দু’পাশে পুরনো গাছগুলি বিপজ্জনকভাবে রয়েছে। ওই দুর্ঘটনার পর মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত বন ও পূর্তদপ্তরের সঙ্গেও কথা বলব। বনদপ্তরের কামাখ্যাগুড়ি মোবাইল (ইস্ট) রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ অফিসার প্রভাতকুমার বর্মন বলেন, কামাখ্যাগুড়িতে পুরনো গাছ কাটার বিষয়ে স্থানীয়রা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ এলে আমরা এবিষয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট পাঠাব। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার নির্দেশ দিলে, সেইমতো আমরা ব্যবস্থা নেব। নিজস্ব চিত্র।