নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মুর্শিদাবাদে অশান্তির জেরে গঙ্গা পার হয়ে মালদহে আসা বাসিন্দারা ধীরে ধীরে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০ জন গঙ্গা পেরিয়ে ধুলিয়ানে ফিরেছেন। আরও কয়েকজন বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। প্রশাসনের তরফে দফায় দফায় তাঁদের বোঝানোর পর নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য অভয় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাচ্চাদের খাবার থেকে শুরু করে ত্রাণের ব্যবস্থাও করছে প্রশাসন।
মালদহের জেলাশাসক নীতিন সিঙ্ঘানিয়া বুধবার বলেন, অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। পারদেওনাপুর হাইস্কুলে এখনও ২৬৯ জন রয়েছেন। শীঘ্রই তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাবেন।
মালদহের প্রত্যন্ত এলাকাগুলির মধ্যে পারদেওনাপুর অন্যতম। এলাকাটি বৈষ্ণবনগর থানার মধ্যে। যা একেবারে গঙ্গার ধারে অবস্থিত। ওপারেই মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান। নৌকায় গঙ্গা পার হতে সময় লাগে প্রায় আধ ঘণ্টা। সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরোধিতাকে মাধ্যম করে ধুলিয়ানে চলা অশান্তির জেরে শনিবার বিকেলে প্রথমে প্রায় দেড়শো জন এপারে মালদহে চলে আসেন। এরপর ধীরে ধীরে আরও প্রায় দু’শো জন এপারে এসে পারদেওনাপুর হাইস্কুলে আশ্রয় নেন।
শনিবার সন্ধ্যে থেকেই আশ্রিতদের জন্য চাল, ডাল, সব্জি, বাচ্চাদের জন্য দুধ, বিস্কুট ও পাউরুটির ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান বৈষ্ণবনগরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দনা সরকার।
ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই সোমবার থেকে আশ্রিতরা ধীরে ধীরে গঙ্গা পেরিয়ে ধুলিয়ানে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। বুধবার নতুন করে কেউ বাড়িতে না ফিরলেও কয়েকজন যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, বসত বাড়ি ছেড়ে এভাবে কতদিন অন্য জায়গায় আশ্রিত হিসেবে থাকব। এভাবে এখানে পড়ে থাকলে সংসারই বা চলবে কীভাবে। কেউ আবার জানান, মুখ্যমন্ত্রী পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিস এবং প্রশাসন অভয় দিয়েছে। তাই এবার একটু সাহস জুগিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পারদেওনাপুর হাইস্কুলে আশ্রিতদের জন্য দুপুর এবং রাতে ভাত, ডাল এবং সোয়াবিনের তরকারি দেওয়া হচ্ছে। সকালে প্রত্যেককে চা, বিস্কুট এবং শুকনো খাবার দেওয়া হয়। বাচ্চাদের জন্য সকালে এবং বিকেলে দুধ, বিস্কুট, পাউরুটির ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। দুপুরে ও রাতে তাদেরও ভাত দেওয়া হচ্ছে। আশ্রিতদের মধ্যে যেহেতু মহিলা এবং বাচ্চাদের সংখ্যা বেশি, তাই তাদের দেখভালের জন্য আশা কর্মীদের রাখা হয়েছে। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর, বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও স্বাস্থ্য কর্মীদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।