নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস। অভিযোগ পেয়ে আসানসোল মহিলা থানার পুলিস গ্রেপ্তার করে উখরার বাসিন্দা সব্যসাচী গরাইকে। তরুণীর অভিযোগ, দুর্গাপুর ও তারাপীঠের হোটেলে নিয়ে গিয়ে বারবার তাঁর সঙ্গে সহবাস করেছিল সব্যসাচী। বিয়ের জন্য আট লক্ষ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছিল পরিবারের কাছ থেকে। তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে নিয়ে দুর্গাপুরের হোটেলে যায় পুলিস। সেখানে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ছেলেটি দফায় দফায় একাধিক মেয়েকে নিয়ে হোটেলে আসত।
সব্যসাচী গরাই একটি উদাহরণ মাত্র। দীঘা, তারাপীঠের মতো পর্যটনকেন্দ্রের হোটেলগুলির মতোই অবাধ মেলামেশার সুযোগ এখন মিলছে শিক্ষানগরী বলে আত্মপ্রকাশ করা দুর্গাপুরেও। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই শিক্ষানগরী ভাবমূর্তি হারাবে দুর্গাপুর। এমনই আক্ষেপ শহরবাসীর। কিন্তু কীভাবে চলছে এই অবাধ মেলামেশার চক্র? জানা যায়, নতুন প্রজন্মের কাছে অতি পছন্দের বিষয় এখন ‘রুম ডেট’। ডেটিং অ্যাপ বা সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয়ের পর ডেট করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যুগলে। আগে ডেট হত শপিং মল, রেস্তরাঁ বা পার্কে। সেইসব এখন অতীত। ডেট হয়ে হোটেলের রুমে। যার পোশাকি নাম ‘রুম ডেট’। দু’ থেকে তিন ঘণ্টার জন্য বুকিং করা হয় রুম। সেখানে অবাধ মেলামেশার সুযোগ। এই নেশায় মেতে উঠছে শিল্পাঞ্চলের পড়ুয়া সমাজও। সম্প্রতি, বিধাননগরে একটি দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল। তারা বহু চেষ্টা করেও কোনও হোটেলের কনফারেন্স হল বুক করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে একটি অনুষ্ঠান ভবনে কর্মসূচি করতে হয়। আয়োজকদের দাবি, আমাদের কর্মসূচি হলে সেখানে রুম ডেটিংয়ে আসা যুগলরা বিড়ম্বনায় পড়ত। তাতে অস্বস্তিতে পড়ত হোটেল কর্তৃপক্ষ। তাই, নানা অছিলায় কনফারেন্স হলের বুকিং নেওয়া হয়নি। অভিযোগ, এই রুম ডেটিংয়ের আড়ালে দেহ ব্যবসাও চলছে দেদার। সেক্ষেত্রে জাতীয় সড়কের পাশে চায়ের ঠেকগুলি অনুঘটকের কাজ করছে। সেখানেই সাময়িক সম্পর্কের পার্টনার পছন্দ করা হচ্ছে। ঠেকের পিছনে নেশা করারও সুযোগ মিলছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্কুলের শিক্ষকরাও।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক কলিমূল হক বলেন, ‘শিক্ষনগরী দুর্গাপুরের ক্ষেত্রে এ এক অশনিসংকেত। শুধু পুলিস প্রশাসনের উপর দায় চাপালে হবে না। নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। এধরনের ঘটনা যেখানে ঘটবে, প্রতিবাদ করতে হবে। প্রশাসনের নজরে আনতে হবে বিষয়টি।’ এমএএমসি মডার্ন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তরুণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘দূর দূরান্ত থেকে অভিভাবকরা দুর্গাপুর পড়ুয়াদের উচ্চ শিক্ষিত করতে পাঠান। আমরা শহরে শিক্ষার পরিবেশই ধরে রাখতে না পারলে, তা হবে অত্যন্ত নিন্দনীয়।’
অন্যদিকে, শহরের ড্যান্সবার নিয়ে বৃহস্পতিবার ‘বর্তমান’ পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হতেই নড়চড়ে বসল জেলা প্রশাসন। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে তারা। অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) সুভাসিনী ই বলেন, ‘আবগারি দপ্তর এই বারগুলির অনুমতি দেয়। অভিযোগ পাওয়ায় আমরা একটি ড্যান্সবারের আবেদন মঞ্জুর করিনি। অন্য বারগুলির ক্ষেত্রে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসন মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, ড্যান্স বার নিয়ে মানুষ আমাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। আমরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনেছি। হোটেলের রুম ডেট নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ করা হবে। দুর্গাপুরে অপসংস্কৃতি বরদাস্থ করা হবে না।