জ্বর-সর্দি কাশিতে কাবু, বাসিন্দারা হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে ভিড়
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ঋতু পরিবর্তনের জের। বাড়ি বাড়ি শিশু থেকে বৃদ্ধেরা জ্বর-সর্দিতে কাবু। সকাল থেকেই রঘুনাথপুর মহকুমার স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির আউটডোরে উপচে পড়ছে ভিড়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসা করতে আসা ৭০ শতাংশ রোগী জ্বর- সর্দিতে কাবু। কেউ সদ্য একদিন কেউবা দীর্ঘ ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত অসুস্থ। ঘরোয়া ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খেয়েও শরীর ঠিক হয়নি। ফলে রোগীরা চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে ভিড় জমাচ্ছে। অনেকের দীর্ঘমেয়াদি জ্বরের জন্য আবার বাইরে থেকে রক্ত পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। তিন দিনের বেশি জ্বরের উপসর্গ থাকলেই হাসপাতালে ম্যালেরিয়ার পরীক্ষা করা হচ্ছে। জ্বর-সর্দির রোগীদের সামলাতে চিকিৎসকেরা হিমশিম খাচ্ছেন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমাজুড়ে এখন ঘরে ঘরে একই ছবি, জ্বর, সর্দি, কাশি, গা-হাত-পা ব্যথায় জর্জরিত শিশু থেকে বৃদ্ধ। ঠান্ডা-গরমের এই খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ভাইরাল ফিভারে গোটা মহকুমা কাবু। গত কয়েকদিন ধরেই রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল সহ রঘুনাথপুর-১ ও ২, পাড়া, নিতুড়িয়া, সাঁতুড়ি, কাশীপুর ও নিতুড়িয়ার মতো সমস্ত ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে রোগীদের লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে।  রঘুনাথপুর হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে সত্যবান বাউরি, সুজাতা অধিকারী বলেন, বাড়িতে বাচ্চা থেকে বুড়ো সবার জ্বর। ওষুধ খেয়েও জ্বর কমছে না। তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত জ্বরের স্থায়িত্ব থাকছে।
 চিকিৎসকদের মতে, এই সময়টা ভাইরাল ফিভারের মরসুম। দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা, মাঝে মাঝে বৃষ্টি আবহাওয়াই এই রোগের কারণ। তবে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চিন্তা বেশি। অনেকের ক্ষেত্রেই জ্বর সেরে গেলেও কাশি দীর্ঘদিন থেকে যাচ্ছে। সাঁতুড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক বুবাই মণ্ডল, রঘুনাথপুর এলাকার চিকিৎসক জয়িতা ঘটক বলেন, এটা ভাইরাল ফিভার। আতঙ্কের কিছু নেই। তবে এই সময় সাবধানে থাকতে হবে। ঠান্ডা লাগানো যাবে না। বেশি ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রচুর জল খেতে হবে এবং জ্বর ২-৩ দিনের বেশি থাকলে অবশ্যই নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।