সংবাদদাতা, ডোমকল: দিনের বেলা সূর্যের তাপে ঘাম ঝরছে, আবার রাত গভীর হতেই নামছে পারদ। আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনায় জ্বর, সর্দি-কাশিতে কাবু আট থেকে আশি। তার উপর পুজোর মরশুম। জ্বর-সর্দি হলেও বাজি পোড়াতেই হবে! আর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে চিকিৎসকের পরামর্শের তোয়াক্কা না করে ওষুধের দোকান থেকে মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাচ্ছেন অনেকে। ‘সেল্ফ মেডিকেশন’-এর এমন প্রবণতায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল।
নভেম্বর শুরু হয়েছে। ভোরে বা গভীর রাতে কিছুটা শীত অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলা ফ্যান-এসি ছাড়া থাকা দায়। আবার রাত বাড়লেই মাঝেমধ্যেই নামছে তাপমাত্রার পারদ। দিন-রাতের তাপমাত্রার এমন তারতম্যের জেরে জ্বর, সর্দি, কাশি থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ভিড় করছেন অনেকে। হাসপাতালের আউটডোরেও বাড়ছে রোগীর চাপ। তবে পুজোর ব্যস্ততায় দ্রুত সুস্থ হতে গিয়ে অনেকেই হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সোজা চলে যাচ্ছেন ওষুধের দোকানে। সেখানে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে সাময়িকভাবে জ্বর বা সংক্রমণের উপসর্গ কমে গেলেও বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের। চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হলেও প্রয়োজন ছাড়া, ভুল মাত্রায় বা অসম্পূর্ণ কোর্সে খেলে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ওই ওষুধ আর কাজ নাও করতে পারে। পাশাপাশি ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও থাকে।
রানিনগর ২ ব্লকের বিএমওএইচ শামিম আক্তার বলেন, মূলত আবহাওয়ার তারতম্যের কারণেই এই সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশি বাড়ছে। ওপিডিতেও ভালোই ভিড় হচ্ছে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনওই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। এতে শরীরে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শহরবাসীর একাংশের দাবি, তবে এর মধ্যেই আরও একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ডোমকল মহকুমার অধিকাংশ ওষুধের দোকানেই স্থায়ী ফার্মাসিস্ট নেই। দোকানের মালিক বা কর্মীরাই ওষুধ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ। এমনকী শিডিউল-এইচ এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধও সহজেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি। চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনে এই ধরনের ওষুধ সেবনের প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের।



