সংবাদদাতা, বোলপুর: পরিবেশ আদালতে মামলা বিচারাধীন। তার মধ্যেই শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্যোগী হলেন লাভপুরের বিধায়ক দেবাশিস ওঝা। বনাঞ্চলের ভিতরে চলা হাট থেকে দখলদারি ও টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে হাটটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমিতে নতুন করে স্টল তৈরি করে সেখানে হাট স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। ফলে পরিবেশ রক্ষা, ব্যবসায়ীদের জীবিকা এবং হাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সোনাঝুরি হাট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশগত বিতর্ক চলছে। প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার, অপরিশোধিত তরল বর্জ্য, গাছ কাটা এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বনাঞ্চলের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হন। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও বনদপ্তর আদালতে হলফনামা জমা দিয়েছে। এপ্রিল মাসে মামলার চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। ফলে হাটের ভবিষ্যৎ এখনও আদালতের রায়ের অপেক্ষায়।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার শান্তিনিকেতনে একটি হস্তশিল্প মেলার উদ্বোধনে এসে লাভপুরের বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ওঝা বলেন, ‘সোনাঝুরি-খোয়াইয়ের হাট নিয়ে মামলা চলছে। বিষয়টি বিচারাধীন। আমরা চাইছি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমিতে স্টল তৈরি করে হাটটি সরিয়ে নিয়ে যেতে। বর্তমানে যে জায়গায় হাট বসছে, সেটি ফরেস্টের ভিতরে। সেখানে বেআইনিভাবে দখল করে যে যেখানে খুশি ব্যবসা করছেন। কিছু লোক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। এগুলি আর চলতে দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, কোথাও কোনও কাটমানি দেওয়া চলবে না। এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি দলের সঙ্গে কথা বলছি। সব দলকে নিয়ে বৈঠক করে মানুষের স্বার্থে কী করা যায়, সেই সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে। সরকারি উদ্যোগে যত দ্রুত সম্ভব স্টল তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি।’
সূত্রের খবর, সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রান্তিকের পশ্চিমবঙ্গ শিল্পী হাটে অতিরিক্ত জেলাশাসক শুভম আগারওয়ালের সঙ্গেও কথা বলেন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমল থেকেই হাটকে ঘিরে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এখনও তা চলছে। একটি পরিবারই ১০-১২টি দোকান বসাচ্ছে। অথচ বহু বেকার যুবক দোকান পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। বনাঞ্চলের পরিবর্তে আরও উপযুক্ত জায়গায় হাট সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। এ জন্য বনমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। এ প্রসঙ্গে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনিভাবে সোনাঝুরি হাট চলছে। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ আদালতে মামলাও বিচারাধীন। হাট সরানোর ব্যাপারে বিধায়ক যে উদ্যোগের কথা বলেছেন, তা শুনে ভালো লাগছে। এতদিনে শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’ ২০০০ সালে আশ্রমকন্যা শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে কয়েকজন আদিবাসী শিল্পী সপ্তাহে একদিন শনিবার এই হাটের সূচনা করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বড় আকার ধারণ করে। বর্তমানে প্রায় দু’ হাজার ব্যবসায়ী বুধবার বাদে সপ্তাহে ছয় দিন হাটে বসেন। পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই হাট। অন্যদিকে, হস্তশিল্পী ও ব্যবসায়ীদের দাবি, বনদপ্তরের নিয়ম মেনেই তাঁরা হাট পরিচালনা করছেন। কোনওভাবেই হাট বন্ধ হতে দেওয়া যাবে না বলে তাঁরা জানান।



