বেলডাঙার সেনপাড়ায় আজও নিষ্ঠাভরে আরাধনা বুড়িমা কালীর
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: বালিকা বেশে কাঁসা পিতলের বাসন ফেরিওয়ালার ঝুঁড়িতে বসেই ভাগীরথী পার হয়েছিলেন বুড়িমা। বেলডাঙা সেনপাড়ার অশ্বত্থ গাছের নিচে ঝুড়ি থেকে নেমে নিমেষের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যান। সেই রাতেই ফেরিওয়ালা নিত্যপুজোর স্বপ্নাদেশ পান। সেনপাড়ার অশ্বত্থ গাছের নিচেই শুরু হয় বুড়িমা কালীর পুজো। পরে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পঞ্চমুন্ডির আসনে পুজো শুরু হয়। বুড়িমা কালীর বয়স ৩০০ বছর অতিক্রম করেছে।  

Advertisement

সেনপাড়ার সুবর্ণবণিক ত্রৈলোক্য পাল মাথায় করে কাঁসা পিতলের বাসন ফেরি করতেন সালার, ভরতপুর এলাকায়। ফেরার পথে নিয়ে আসতেন রেশম। একদিন ভরতপুরের আলুগ্রাম থেকে ফেরার পথে সাক্ষাৎ হয় বছর আটেকের এক বালিকার সঙ্গে। সেই বালিকা কাঁদতে কাঁদতে সাহায্য চায় ত্রৈলোক্য পালের কাছে। তিনিই ওই বালিকাকে মাথার ঝুড়িতে বসিয়ে নিয়ে এসে সেনপাড়ার অশ্বত্থ গাছের নীচে নামান। সেই রাতেই বালিকার রূপধারী মা কালী ত্রৈলোক্য পালকে স্বাপ্নাদেশ দেন, আমাকে তুই নিয়ে এলি। অশ্বত্থ গাছের নিচে আমি আশ্রয় নিয়েছি। আমার নিত্যপূজার ব্যবস্থা কর। ত্রৈলোক্য পাল যেহেতু অব্রাহ্মণ তাই পাড়ার চট্টোপাধ্যায় পরিবারের হাত দিয়েই অশ্বত্থ গাছের নিচে বুড়িমা কালীর প্রতিষ্ঠা ও নিত্যপূজা শুরু করেন। পরবর্তীতে মন্দির ও পঞ্চমুন্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করে বুড়িমা কালীর পুজো চলে আসছে।
দীপান্বিতা অমাবস্যা, ফাল্গুনি ও শুক্লা চর্তুদর্শীতে বারোয়ারি পুজো হয়। এছাড়া প্রতি শনি, মঙ্গল, অমাবস্যা,অষ্টমী, নবমী তিথি,পূর্ণিমা, চর্তুদর্শী, সংক্রান্তিতে মানসিকের পুজো হয়। এইভাবে রথের দিন শেষ হয় পুজো। আগে ছাগ বলি হলেও বর্তমানে তা বন্ধ করে ফল বলি দেওয়া হয়। মায়ের ভোগে লুচি, চতুরান্ন আবশ্যিক। এছাড়া শোল মাছের ঝোল নিবেদন করা হয় দীপান্বিতা অমাবস্যায়। শোল মাছ না পাওয়া গেলে যেকোনো জিয়ল মাছের ঝোল দেওয়া হয়।
বেলডাঙা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বুড়িমা কালী মাহাত্ম্য ও অলৌকিক কাহিনি ছড়িয়ে গিয়েছে দূরদূরান্তে। শাক্তমতে পঞ্চমুন্ডির আসনে বসেই পুজো করেন পুরোহিত। বুড়িমা কালী জাগ্রত মা বলেই বিশ্বাস করেন এলাকার মানুষ। মায়ের কাছে ভক্তি সহকারে মানসিক করে কেউ কোনোদিন খালি হাতে ফেরেনি বলেই জনশ্রুতি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মীনারায়ণ চ্যাট্টোপাধ্যায় বলেন, বুড়িমার সঙ্গে যে কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে তার একবিন্দু মিথ্যা বা বানানো গল্পকাহিনী নয়। তবে বুড়িমা নাম কীভাবে হল তার ব্যাখ্যা মেলেনি। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর মন্দির কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্দির কমিটির অন্যতম সদস্য স্মৃতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ১৯২৬ সালে সিএস সেটেলমেন্টে মন্দিরের এক শতক জায়গা ‘খেপা মায়ের’ নামেই উল্ল্যেখ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই খেপা মা দেবী বুড়িমা নামেই পরিচিত হয়ে ওঠে।