নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আয়ুষ্মান ভারত কার্ড প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেছে বেশ কিছু বড়ো কর্পোরেট হাসপাতাল। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যের ছোটো-মাঝারি বেসরকারি হাসপাতালগুলির নতুন সংগঠনের সম্পাদক ডাঃ রাজীব পান্ডে। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডধারী বেশ কিছু রোগী বড়ো কর্পোরেট হাসপাতালে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আমাদের ছোটো ও মাঝারি বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে আসছেন। ওরা হয়ত মোট শয্যাসংখ্যার ১০ শতাংশে আয়ুষ্মান ভারতের রোগী ভরতি করে। কিন্তু আমাদের কাছে যাঁরা আসেন, তাঁদের আমরা এই কার্ডেই চিকিৎসা করি।
ডাঃ পান্ডে বলেন, নতুন সরকার লাইসেন্সিং প্রথা সহজ করে ‘এক জানালা ব্যবস্থা’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা অর্থোপেডিকের মতো বিভাগে আয়ুষ্মান ভারতের প্যাকেজ রেট সংশোধনের দাবি জানিয়েছি। বেশ কিছু জেলায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠলেই নার্সিংহোম-বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন সেখানকার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। এগুলি মানা যায় না। বিষয়টি উপযুক্ত জায়গায় জানিয়েছি। স্বাস্থ্যসাথী সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে যদি আমাদের সংগঠনভুক্ত কোনো হাসপাতাল দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা তাদের সদস্যপদ খারিজ করে দেব।
এই সংগঠনের অভিযোগ প্রসঙ্গে পূর্ব ভারতের বড়ো কর্পোরেট হাসপাতালের সংগঠনের শীর্ষকর্তা রূপক বড়ুয়া বলেন, আয়ুষ্মান ভারতের মাধ্যমে বড়ো ও জটিল চিকিৎসা বা অপারেশন বড়ো কর্পোরেট হাসপাতালেই হচ্ছে। আমাদের বেডের সীমাবদ্ধতা আছে। তাই ছোটো ও মাঝারি সমস্যায় অনেক ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারতের রোগীদের ভরতি করা সম্ভব হচ্ছে না। সংগঠনের তরফে আরও জানানো হয়, বর্তমানে দেশে মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ বেসরকারি ক্ষেত্রে ও ৩০ শতাংশ সরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসা পায়। পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটি ঠিক উলটো। ফলে এখানে ছোটো ও মাঝারি নার্সিংহোম-হাসপাতালের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। সংগঠনের অনুষ্ঠানে এসে ফেডারেশন অব প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোমস অ্যাসোসিয়েশনস অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ডাঃ এইচ এম প্রসন্ন বলেন, এখনও দেশের সিংহভাগ বেড রয়েছে ছোটো ও মাঝারি হাসপাতালে।



