নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও আসানসোল: ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে ডবল ডবল চাকরি! বাংলাকে অপদস্ত করতে কথায় কথায় ডবল ইঞ্জিন রাজ্য উত্তরপ্রদেশের তুলনা টানেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা! অথচ সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকেই বাংলায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে এসে পরীক্ষার্থীরা শুনিয়ে গেলেন, ‘যোগী রাজ্যে চাকরি কেবল খাতায় কলমেই! সবই আই ওয়াশ। বেকারত্ব বাড়ছে হু হু করে। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের আজ ভিন রাজ্যে কাজ খুঁজতে যেতে হচ্ছে।’
দীর্ঘ ন’ বছর পর রবিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসি পরীক্ষা হল এ রাজ্যে। সেই পরীক্ষা দিতেই ভিন রাজ্যে থেকে ভিড় জমালেন পরীক্ষার্থীরা। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ডের কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী রবিবার পরীক্ষায় বসেছিলেন। পুরুলিয়ার মানভূম ভিক্টোরিয়া স্কুলের গেটের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা প্রবীণ কুমারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। প্রবীণ বলেন, ‘হিন্দি বিষয়ের জন্যই আবেদন করেছিলাম। পরীক্ষার আয়োজনে, বাংলার পুলিশের সহযোগিতায় আমরা আপ্লুত।’ নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু বাংলাই নয়, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ থেকে গুজরাত, সমস্ত জায়গাতেই এই দুর্নীতি রয়েছে। তবে, বাংলার সরকার অনেক বেশি লোকতান্ত্রিক।’
তাঁর সঙ্গেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ওই রাজ্যের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা আলোক তিওয়ারি। ডবল ইঞ্জিন সরকারকে তুলোধোনা করে তিনি বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশের এই মুহূর্তে রোজগারের কোনও ব্যবস্থাই নেই। রুটিরুজির জন্য বাসিন্দাদের ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে।’ তাহলে যোগী সরকার যে ডবল ডবল চাকরির দাবি করছেন? আলোকের দাবি, ‘রোজগার কেবল কাগজে কলমেই। বাস্তবে নেই। সেই কারণেই রাজ্যের বাসিন্দাদের পরিযায়ী হতে হচ্ছে।’ এদিন পুরুলিয়ার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে ঝাড়খণ্ড, বিহার থেকেও বহু যুবক, যুবতী পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। অধিকাংশই ‘হিন্দি’ বিষয়ের জন্যই পরীক্ষা দিয়েছেন।
শিল্পাঞ্চলেও স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে লাইন দিয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে উত্তরপ্রদেশ, বিহারের চাকরিপ্রার্থীরা। আসানসোল থেকে রানিগঞ্জ, দুর্গাপুর সব শহরেই একই ছবি। বাংলায় পরীক্ষা দিতে এসে ডবল ইঞ্জিন সরকারের ফানুস ফাটিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।
ইউপি, বিহার সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন সেখানকার বাসিন্দারা। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ থেকে ভাঙা হাত নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছেন সন্দীপকুমার যাদব। হাতে প্লাস্টার নিয়ে সন্দীপ বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশে চাকরির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সংসার চালাতে চাকরিটা বিষয় প্রয়োজন তাই ট্রেন চড়ে এত দূর এসেছি।’ তাঁর পিছনেই ছিলেন উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা অমিত যাদব। তাঁরও সন্দীপের মতো পরীক্ষায় সিট পড়েছিল আসানসোল গার্লস কলেজে। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগের চাকরির ফর্ম ফিলআপ করেছি। এখনও পর্যন্ত পরীক্ষাই হল না।’
তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে এবার বিহারের ডবল ইঞ্জিন সরকারকে তুলোধোনা করেন দয়াল সিং। তিনি বলেন, ‘সকালে স্টেশন এলে জানতে পারতেন কত পড়ুয়া এখানে চাকরির পরীক্ষা দিতে এসেছে। আমি গাজিপুর থেকে এসেছি। বিহারে স্বচ্ছভাবে চাকরি কোথায় হচ্ছে!’ বীরভুমের রামপুরহাট গার্লসেও ভিন রাজ্যের বহু পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার সিট পড়েছিল।
এনিয়ে তৃণমূল-বিজেপির তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, উত্তরপ্রদেশ নাকি বিজেপির মডেল রাজ্যে! সেই রাজ্যের পরীক্ষার্থীরাই আজ ডবল ইঞ্জিন সরকারের ফানুস ফাটিয়ে দিয়েছেন।
এবার কথায় কথায় উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গ টানার আগে লজ্জা করা উচিত বিজেপি নেতাদের। কুলটির বিজয়েপির বিধায়ক অজয় পোদ্দার পাল্টা বলেন, উত্তরপ্রদেশের অবস্থা এত খারাপ নয় যে বাংলায় এসে পরীক্ষা দিতে হবে। যাঁরা পরীক্ষা দিচ্ছেন, যাঁরা নিশ্চয় দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় থাকছেন।