সংবাদদাতা, কাটোয়া: এবার গ্রামেই হোক ভোটের বুথ। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম লাগোয়া শিলুড়ির চর গ্রামের বাসিন্দাদের এটাই দাবি। নদীর এই চরের বাসিন্দাদের ভোট দিতে যেতে হয় নদীয়ার কালীগঞ্জের গোবরা অঞ্চলের ফুলবাগানের ২৫২ নম্বর বুথে। বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনেও তা-ই করতে হয়েছে তাঁদের। নৌকো চেপে ভাগীরথী পার করে পৌঁছতে হয়েছে বুথে। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই ভোট দিয়ে আসছেন তাঁরা। কিন্তু আর তাঁরা এই ভাবে ভোট দিতে চান না।
কাটোয়া মহকুমার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী। পূর্ব বর্ধমান ও নদীয়া জেলাকে ভাগ করেছে এই নদী। কিন্তু ভাগীরথীর গা ঘেঁষে থাকা গ্রামগুলো রয়েছে অদ্ভুত ভাবে। কোথাও ভাগীরথীর ডান তীরে পূর্ব বর্ধমান জেলার সঙ্গে লেগে থাকা কোনও গ্রাম খাতায়কলমে নদীয়া জেলার অন্তর্গত। আবার কোথাও নদীয়ার গা ঘেঁষে থাকা কোনও গ্রাম পূর্ব বর্ধমানে জেলার অধীন। কেতুগ্রামের শিলুড়ি চর গ্রামটিও অবস্থানগত ভাবে পূর্ব বর্ধমান জেলার দিকে হলেও নদীয়া জেলারই অংশ। কালীগঞ্জের গোবরা অঞ্চলের ফুলবাগানের ২৫২ নম্বর বুথের মোট ভোটার ৯৩৭ জন। কিন্তু তারমধ্যে ২৮০ জন ভোটার শিলুড়ির চরে থাকেন। গ্রামটিতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি ঘর রয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা রাহুল চৌধুরী, রোহন চৌধুরী বলেন, আমরা বাজারহাট করি পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে। আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে কেতুগ্রামে। হাসপাতালে চিকিৎসা করাই সেটাও কেতুগ্রামে। কিন্তু অফিশিয়াল কাজকর্ম করতে আমাদের যেতে হয় নদীয়ায়। জীবন নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে। রেশন তুলতে গেলে, ভোট দিতে গেলে নদীয়া জেলায় যেতে হয়। গ্রামেই যদি বুথ হতো তাহলে আমাদের আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হতো না। গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মী চৌধুরী, অনিল চৌধুরী বলেন, আমাদের আবার নির্দিষ্ট কোনও ফেরিঘাট নেই। ভাঙনের জন্য নদী পাড়ের যেখানেই খাল হয়ে যায় সেখান থেকেই নৌকায় চাপতে হয়। বৃষ্টিতে নদী পার হওয়া রীতিমতো ঝুঁকির। আমাদের দাবি দ্রুত পূরণ করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলুড়ি চর এলাকাতেও ভাগীরথীর পাড় ভাঙছে। এক সময়ে যে গ্রামে কয়েকশো পরিবার বাস করত। এখন সেখানে মেরেকেটে ৭০টি পরিবারের বাস। নৌকা করে গিয়ে ভোট দিয়ে ফের গ্রামে ফিরে আসেন সবাই। গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর রাজনৈতিক নেতারা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেয়। কিন্তু ভোট পার হয়ে গেলে আমাদের কেউ খোঁজ রাখে না। কারণ আমরা বিছিন্ন চরের বাসিন্দা। ভাগীরথী পেরিয়ে কালীগঞ্জে ভোট দিতে যাচ্ছেন শিলুড়ি চরের বাসিন্দারা। নিজস্ব চিত্র