নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সামশেরগঞ্জ থেকে লালগোলা, গঙ্গা ও পদ্মা ভাঙনে ঘুম উবেছে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের। ভরা বর্ষায় ভাঙনের অভিশাপে আবারও উদ্বাস্তু হলেন সামশেরগঞ্জের উত্তর চাচণ্ড এলাকার বাসিন্দারা। রাতের অন্ধকারে লোকজন বাড়িতে যখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিলেন, সেই সময় ঝুপঝাপ করে নদীতে ভেঙে পড়তে থাকে মাটি। কারও উঠান, কারও সাজানো বাগান, আবার কারও গোটা দোতলা বাড়ি ভেঙে চলে গিয়ে সর্বগ্রাসী গঙ্গায়। নদী পাড় সংলগ্ন কালীমন্দিরেও ধরেছে বিশাল ফাটল। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বড় বড় প্রাচীন গাছ। ভেসে গিয়েছে বেশ কয়েকটি গবাদি পশুও। ভাঙনের টের পেয়ে ঘুম চোখেই কোনওরকমে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘর ছেড়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে সামশেরগঞ্জের ১০টি পরিবার। এখনও চোখে মুখে তাঁদের আতঙ্ক।
স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, চোখের সামনে দেখলাম বাড়ির সব লিচুবাগান গঙ্গায় তলিয়ে গেল। আশেপাশের বাড়ির লোকজনকে ডেকে তুললাম। ১০ মিনিটের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে সমস্ত কিছু নিয়ে বেরিয়ে এসেছি। তারপর একে একে বাড়িঘর ভেঙে মাটি সহ সব জলের তলায় চলে গেল। সব শেষ হয়ে গেল!
জঙ্গিপুর মহকুমায় গঙ্গায় জলস্তর সর্বোচ্চ বিপদসীমা ২১.৬৪ মিটার ছাপিয়ে গিয়েছে। সোমবার রাত থেকেই সামশেরগঞ্জ ব্লকের বেশ কিছু জায়গায় সর্তকতা জারি করে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে সামশেরগঞ্জ এলাকায় জলস্তর ছিল ২২.৫২ মিটার। যা অনেকটাই বেশি। একদিকে গঙ্গার জলের ব্যাপক স্রোত, অন্যদিকে নদী ভাঙনের ভয়াবহতায় দিশেহারা বাসিন্দারা। মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয় ভাঙন। তলিয়ে গিয়েছে বেশ কিছু বাড়ি। আরও একাধিক বাড়ি গঙ্গা পাড়ে বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছে। আতঙ্ক আর হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে উত্তর চাচণ্ডজুড়ে।
আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন জাতীয় জল কমিশনের এক আধিকারিক বিজয় কুমার ঝা। তিনি বলেন, ফরাক্কায় জলের বিপদসীমা ৭৩ ফুট। সোমবার ছিল ৭৯ ফুটের উপরে। মঙ্গলবার আপ স্ট্রিমে জল ছিল ৮০ ফুটের উপরে। ডাউন স্ট্রিমে মুর্শিদাবাদের দিকে জলস্তর ছিল প্রায় ৭৯ ফুট। মুর্শিদাবাদে জল আরও কয়েকদিন বাড়বে।
লালগোলায় আবার পদ্মা ফুঁসছে। গ্রাম ছাড়তে শুরু করেছেন বাসিন্দারা। অনেকেই রাত জেগে পদ্মা পাহারা দিচ্ছেন। লালগোলার এক ব্লক প্রশাসন আধিকারিক বলেন, যে সমস্ত পরিবার নদীর তীরে বসবাস করে, তাদের তারানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। যারা যেতে চাইছে না সেইসব পরিবারের কাছে ইতিমধ্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, নদীর ভাঙন রুখতে পাড়ে যে স্তর পর্যন্ত বালির বস্তা ফেলা হয়েছিল, তা ছাপিয়ে গিয়েছে। আর কয়েক ফুট বাড়লে গ্রামে জল ঢুকবে। প্রায় প্রতিদিনই এলাকার বাসিন্দারা নিয়ম করে রাত জাগছেন। বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের আসবাবপত্র দূরবর্তী আত্মীয়ের বাড়িতে এবং বিদ্যালয় নিয়ে গিয়েছেন। জলের স্রোত বেশ বেড়েছে। খুবই আতঙ্কে আছি।