সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: রেললাইনের গার্ডরেলের বেড়া গলেই আজ ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রের ২৫২ নম্বর ইন্দ্রাবনী স্কুলের বুথে ভোট দিতে যাবেন রাশুয়া গ্রামের প্রায় দেড়শো ভোটার। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গার্ডরেল দেওয়ার ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া পঞ্চায়েতের রাশুয়া গ্রামের ৪২টি পরিবার। ঘর থেকে যাতায়াতের তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা নেই। রাস্তা তৈরি নিয়ে পরিবারগুলি বিভিন্ন জায়গায় সমস্যার কথা তুলে ধরলেও সুরাহা মেলেনি। ঝুঁকি নিয়ে গার্ডরেল গলেই এবার তাঁদের ভোট দিতে যেতে হবে।
খড়্গপুর-টাটা রেল শাখার সরডিহা ও বাঁশতলা স্টেশনের মধ্যবর্তী রেল লাইনের একেবারে পাশে রাশুয়া গ্রামের ৪২টি পরিবারের বাস। এতকাল ধরে এই পরিবারগুলির সদস্যরা রেললাইনের পাশ দিয়ে রেলগেট পেরিয়ে মূল রাস্তায় যেতেন। এভাবেই ঝাড়গ্রাম ও মানিকপাড়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তাঁরা। নতুন তৃতীয় রেললাইন তৈরির পর সেই রাস্তা সঙ্কুচিত হয়। রেললাইনের দু’পাশে বেড়া দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। এই গার্ডলাইনের ফলে পরিবারগুলির রেললাইনের পাশে যেটুকু রাস্তা ছিল তাও সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। আগে হাতির করিডোর এলাকায় রেল লাইনের পাশেই বেড়া নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বন দপ্তর। বাসিন্দারা বলছেন, রাশুয়া গ্রামের পাশে রেল লাইনের দু’পাশে যে বেড়া দেওয়া হয়েছে সেটিও হাতির করিডর। বিভিন্ন সময়ে রামরামার জঙ্গল থেকে ইন্দ্রাবনী গ্রামের পাশ দিয়ে হাতির দল রেললাইন পেরিয়ে পূর্বশোলের জঙ্গল হয়ে এই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করে।
এনিয়ে রাশুয়া গ্রামের বাসিন্দা সুধীররঞ্জন মাহাতো বলেন, গ্রামের একটি অংশে প্রায় ৪২টি পরিবার গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছি। এই সমস্যা অনেক পুরনো। আগে রেলের জায়গার উপরে থাকা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হত। তৃতীয় রেললাইন তৈরি ও বেড়া দেওয়ার ফলে সেই রাস্তা সঙ্কুচিত হয়েছে। এবারে সেই গার্ডরেল গলে ঝুঁকি নিয়ে সবাইকে ভোট দিতে যেতে হবে।-নিজস্ব চিত্র