সংবাদদাতা, করিমপুর: তফসিলি উপজাতি শংসাপত্রের জন্য বহুবার আবেদন করেছেন করিমপুর-২ব্লকের রহমতপুর গ্রামের বাসিন্দারা। তারপরেও অনেকেই তা পাননি। শেষ পর্যন্ত ১১ মে, রবিবার গ্রামবাসীদের শংসাপত্রের আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখলেন প্রশাসনের কর্তারা। ওই গ্রামের তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা বলেন, জাতিগত শংসাপত্র না থাকায় আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বারবার আবেদন করেও গ্রামের প্রায় ২১২জন বাসিন্দা এখনও তনসিলি উপজাতি শংসাপত্র পাননি। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। সকলের দাবি মেনে কিছুদিন আগে করিমপুর-২ব্লক প্রশাসন ও রহমতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বাসিন্দাদের যাবতীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে দুয়ারে ক্যাম্প বসে। রহমতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শম্পা বিশ্বাস বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেইসময় কিছু মানুষকে সহযোগিতা করা হয়েছিল। ওই গ্রামের মানুষজন বেশ কয়েকবার পঞ্চায়েতে এসে তাঁদের সমস্যার কথা জানান। এরপর আমি বিডিও সাহেবকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করি। ওঁর নির্দেশমতো এদিন শুধুমাত্র তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের শংসাপত্র তৈরি করার জন্য বিশেষ ক্যাম্প করা হয়েছিল। দেখা যায়, অনেকেরই জাতিগত শংসাপত্র তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। করিমপুর পান্নাদেবী কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সঙ্গীতা মাল বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় ২১২জনের জাতিগত শংসাপত্র নেই। ফলে, তাঁরা সরকারি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান সৌমেন বিশ্বাসের সহযোগিতায় শংসাপত্র পেয়ে কলেজ থেকে সরকারি আর্থিক সাহায্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের পাড়ার অনেকেই সরকারি টাকা না পাওয়ায় স্কুল-কলেজমুখী হতে পারছে না। গ্রামের উপজাতি সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা জানান, সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। জাতিগত শংসাপত্র না থাকায় রেশন দোকান থেকে শুরু করে চাকরির ক্ষেত্র, স্কুল-কলেজে ছেলেমেয়েদের পড়ার জন্য আর্থিক সহযোগিতা সহ কিছুই পাচ্ছি না।
করিমপুর-২এর বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, রবিবার ওই গ্রামে একটি বিশেষ ক্যাম্প করে গ্রামের মানুষদের থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অনেকেই সমস্ত কাগজপত্র দিতে পারেননি। তাঁদের বাকি কাগজগুলি তৈরি করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। এরপর সমস্ত কাগজ তৈরি করে তেহট্টের মহকুমা শাসকের মাধ্যমে নবান্নে পাঠানো হবে। আশা করা যায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বঞ্চিত মানুষজন শীঘ্রই তফসিলি উপজাতি শংসাপত্র পেয়ে যাবেন।