Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গালুডির ছাড়া জলে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা, তটস্থ নয়াগ্রাম ও গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দারা

গালুডির ছাড়া জলে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা, তটস্থ নয়াগ্রাম ও গোপীবল্লভপুরের বাসিন্দারা
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বৃষ্টি হলেই ঝাড়খণ্ডের গালুডি ড্যাম থেকে জল ছাড়া হচ্ছে। যার জেরে সুবর্ণরেখা নদীতে জলস্তর ক্রমাগত বাড়ছে। নদী তীরবর্তী নয়াগ্ৰাম, গোপীবল্লভপুরের দু’টি ব্লকের বাসিন্দারা বর্ষায় ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় তটস্থ। তাঁরা দাবি জানাচ্ছেন পাড় বাঁধানোর। ইতিমধ্যে সুবর্ণরেখা নদীর জল কূল উপচে তীরবর্তী ফসলি জমি ডুবিয়ে দিয়েছে। গত রবিবার দুপুর থেকে তিন দফায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয় গালুডি থেকে। এদিনও ১ লক্ষ ৮৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। নদীর জল বাড়ির কাছে চলে আসায় বাসিন্দারা আতঙ্কিত। নদীর পাড় ক্রমাগত ভাঙছে। গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের মালঞ্চ, ছাতিনা, নয়াগ্ৰাম ব্লকের শুকদেবপুর, যাদবপুর, নরসিংহপুর গ্ৰামের বাসিন্দারা ভয়ে রাত জাগছেন। যে কোনও মুহূর্তে ঘরের ভিতর জল ঢোকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছ থেকে জল ছাড়া নিয়ে আগাম সতর্কবার্তা না মেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। কুলিয়ানা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মালঞ্চ গ্ৰামে ৩০০ পরিবার বসবাস করেন। দুই বছর আগেও নদী পাঁচশো ফুট দূরে ছিল। এখন নদীর জল গ্ৰামের বাড়িঘরের পাশ দিয়ে বইছে। গ্ৰামের বড় মাঠ, আমবাগান নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত রানা বলেন, ২০২১ সালে দোতলা ইঁটের বাড়ি তৈরি করা হয়েছিল। নদী তখন অনেকটাই দূরে ছিল। এখন বাড়ির গা ঘেঁষে জল বইছে। এই বর্ষায় বাড়িটা টিকবে কি না জানি না। গালুডি ড্যাম থেকে জল ছাড়লেই জলের স্রোত বাড়ির দেওয়ালে ধাক্কা মারছে। রাতে আতঙ্কে ঘুম হয় না। অপর বাসিন্দা শক্তিপদ ভুঁই বলেন, আলমপুরের দিকে নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। জলের স্রোত সেখানে ধাক্কা মেরে গ্ৰামের এদিকে আসছে। পাড় ভাঙতে ভাঙতে নদী গ্ৰামের একেবারে কাছে চলে এসেছে। পাড় না বাঁধালে পুরো গ্ৰামটাই এবার নদীর গ্ৰাসে চলে যাবে। নদীর পাড় বাঁধানোর পরিকল্পনা না থাকায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। গোপী-২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ দ্বিজেন বারিক বলেন, আমি এই গ্ৰামের বাসিন্দা। জল আরও বাড়লে গ্ৰামে জল ঢুকে যাবে। গ্ৰামবাসীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। পাড় বাঁধানো নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগের খবর পেয়েছি। নয়াগ্ৰাম ব্লকের শুকদেবপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কিছুদিন আগে  বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা গ্ৰাম পরিদর্শন করে গিয়েছিলেন। গালুডি ড্যাম থেকে আবার জল ছাড়া হয়েছে। জলের স্রোতে দিনরাত পাড় ভাঙছে। পাঁচ বিঘা জমি আগেই জলের তলায় চলে গিয়েছে। পাড় বাঁধানো না হলে ভিটেমাটিটুকুও আর থাকবে না। নয়াগ্ৰামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু বলেন, গ্ৰামগুলোর দিকে নদী এগিয়ে আসায় আমরাও উদ্বিগ্ন। খড়ি পাড়িয়া থেকে মালঞ্চ শিবমন্দির উত্তরপাড়া পর্যন্ত পাড় বাঁধানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ