সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: পুরসভার অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা। অভিযোগ, বার বার পুরসভাকে এনিয়ে জানানো হলেও, কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। শহরের ৫ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বর্ষার সময় প্রতিবছর ডাম্পিং গ্রাউন্ড উপচে নোংরা জল বাড়িতে ঢুকে পড়ে। মানসাই ও সুটুঙ্গা নদীর সংযোগস্থলে তৈরি এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডের আবর্জনা নদীর জলেও মিশে যায়। যার ফলে নদী দূষণও হচ্ছে। যদিও পুরসভা জানিয়েছে, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের জন্য পচাগড় গ্রামপঞ্চায়েতের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ড চালু হলে এখানে আবর্জনার স্তূপ কমে যাবে।
বিগত বাম পুরবোর্ডের সময়ে মাথাভাঙা পুরসভার ৫ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানসাই-সুটুঙ্গা নদীর সংযোগস্থলে অস্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড চালু করা হয়। প্রথমদিকে বাঁধ থেকে অনেকটা ভিতরে আবর্জনা ফেলা হতো। বছরের পর বছর আবর্জনার স্তূপ জমে গোটা জায়গা ভরাট হয়ে গিয়েছে। বেশকিছুদিন ধরে বাঁধের খুব কাছেই ফেলা হচ্ছে শহরের আবর্জনা। ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা এলাকায়। অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন বাসিন্দারা। এনিয়ে পুরসভা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। স্থানীয়রা জানান, দুর্গন্ধে এলাকায় থাকা যাচ্ছে না। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অবিলম্বে এবিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা কনক বর্মন, বাবলু দাস’দের অভিযোগ, আমরা এখানকার পরিস্থিতি জানিয়ে অনেকবার পুরসভার কাছে আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টে বলা হয় ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পাশে বাড়ি তৈরি করলে দুর্গন্ধ তো সহ্য করতে হবে।
পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার চন্দ্রশেখর রায়বসুনিয়া বলেন, বর্জ্যের দুর্গন্ধে ওখানকার বাসিন্দাদের সমস্যা হয় সেটা জানি। কিন্তু ওখানকার ডাম্পিং গ্রাউন্ড তো অনেক পুরনো। আমরা পচাগড় গ্রামপঞ্চায়েতের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সেখানে কাজ শুরু হলে সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে। পরবর্তীতে কিছু বাড়ি ডাম্পিং গ্রাউন্ড লাগোয়া জায়গায় হয়েছে। ওঁরা বেশি সমস্যায় পড়ছে। আমরা চালকদের বলে দেব আবর্জনা যাতে আরও ভিতরে নিয়ে ফেলা হয়।
নিজস্ব চিত্র।