সংবাদদাতা, করিমপুর: বেপরোয়া মোটর বাইকের দাপটে আতঙ্কিত করিমপুরের বাসিন্দারা। করিমপুর বাজারের রাস্তায় চলাচল করা কিছু মোটরবাইকের গতি ও আওয়াজে আতঙ্কিত সকলে। মাঝে মাঝেই বাইক দুর্ঘটনা ঘটলেও হুঁশ ফিরছে না আরোহীদের। এব্যাপারে পুলিস প্রশাসনকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকার মানুষের। অভিযোগ, করিমপুরের নাটনা মোড় থেকে নতিডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তায় সবসময় মানুষের ভিড় লেগে থাকে। অথচ সেই রাস্তাতেই দ্রুতগতির কয়েকটি মোটরবাইক যেভাবে যাতায়াত করে তাতে যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, মাঝে মাঝে বাইক দুর্ঘটনা ঘটছে। কিছুদিন আগেও বেশ কয়েকটি বাইক দুর্ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। তার পরেও দুরন্ত গতিতে বাইক চলছে। কিছু তরুণ আবার হেলমেট ছাড়াই বাইক চালাচ্ছে এই রাস্তায়। কেউ কেউ বাইকে সাইলেন্সারের ভিতরের পাইপ খুলে দিয়ে দ্রুত গতিতে বাইক চালানোর ফলে কান ফাটানো বিকট আওয়াজ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা সোমেন মণ্ডল বলেন, এর আগে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ নিয়ে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিল পুলিস। রাস্তার যে কোনও জায়গায় ব্রেথ অ্যানালাইজার দিয়ে চালকের পরীক্ষা, হেলমেটবিহীন মোটরবাইক চালকের গাড়ির কাগজপত্র জমা রেখে তাদের হাতে জরিমানার কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হত। ট্রেজারিতে বা অনলাইনে জরিমানা অর্থ জমা করে তার রশিদ দেখে সংশ্লিষ্ট অফিসারের কাছ থেকে জমাকৃত কাগজপত্র ফেরত নিয়ে যেতে হত আরোহীদের। তাতে বেপরোয়া বাইকে কিছুটা লাগাম দেওয়া গিয়েছিল। এখন সেসব না হওয়ায় আবার দ্রুতগতির বাইকের উৎপাত বেড়েছে। দুরন্ত গতির এইসব বাইক আটকাতে পুলিসের অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। করিমপুর বাজারের মোটর বাইক শো-রুমের এক মালিক জানান, দ্রুত গতির ২০০ থেকে ২৫০ সিসি বাইক নতুন প্রজন্মের পছন্দের এবং তারা সেই বাইক কিনে গাড়ির সাইলেন্সার খুলে নতুন উচ্চ শব্দের সাইলেন্সার লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে রাস্তায় বাইকের বিকট আওয়াজ হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। আমাদের কিছু করার নেই। করিমপুরের সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, করিমপুর বাজার মূলত একমাত্র রাজ্য সড়কের ২ পাশে অবস্থিত। যে কারণে ওই রাস্তায় সর্বক্ষণে পথচলতি মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকটি দ্রুতগতির বাইকচালকের জন্য এখানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেভ ড্রাইভ সেভ লাইফ নিয়ে এত প্রচার করার পরেও এই বেপরোয়া বাইক বন্ধ করা যাচ্ছে না। পুলিসের এক আধিকারিক জানান, আগে করিমপুর বাজারে যানজট লেগে থাকায় দু-একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে ট্রাফিক পুলিস নিয়ন্ত্রণ করায় সেই দুর্ঘটনা অনেকটা কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে বেশকিছু বাইক বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেই বাইকচালকদের অনেক সময় নাগালে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পুলিস তাদের উপরে নজর রাখছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



