সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রঘুনাথগঞ্জ তথা জঙ্গিপুরে নিত্য যানজটে নাকাল হচ্ছেন শহরবাসী। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন দুর্ভোগ বাড়লেও, সমস্যা থেকে নিষ্কৃতির কোনও লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, যানজট নিয়ে কর্তৃপক্ষ কার্যকরী পদক্ষেপ নিক। শহরকে যানজটমুক্ত করতে টোটো চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিস। রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার চালকরাই কেবল শহরে টোটো চালাতে পারবেন। জরুরি পরিষেবা ছাড়া, অন্য থানার চালকরা শহরে প্রবেশ করতে পারবেন না। পুলিসের পক্ষ থেকে তেমনটাই ঘোষণা করা হয়েছে। রঘুনাথগঞ্জ সদর ট্রাফিক ইন চার্জ তন্ময় গোনাই বলেন, শহরে যানজট কমাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর শহরে অন্য থানার টোটো প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়াও ফুটপাত দখলকারীদেরও উচ্ছেদ করা হবে।
জঙ্গিপুর শহর প্রায় দেড়শো বছরের প্রাচীন। এই শহরকে পূর্ব ও পশ্চিমে ভাগ করেছে ভাগীরথী নদী। পশ্চিমে রঘুনাথগঞ্জ শহর এবং পূর্বে জঙ্গিপুর। এই শহরের প্রধান অংশ রঘুনাথগঞ্জ। হাসপাতাল, অফিস-আদালত, থানা, বিডিও অফিস, বাসস্ট্যান্ড, পুরসভা এবং স্টেশন, সবই রয়েছে রঘুনাথগঞ্জ শহরে। ফলে দৈনন্দিন কাজে কয়েক হাজার মানুষ শহরে আসে। কিন্তু, মূল রাস্তাটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে লালাগোলা রাজ্য সড়ক, জঙ্গিপুর শহরের রঘুনাথগঞ্জ হয়ে উমরপুর ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কে মিশেছে। নদীর পশ্চিম পাড়ে রয়েছে জঙ্গিপুর কলেজ, ছাত্রাবাস, জঙ্গিপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং গার্লস হাইস্কুল। ফলে, সাধারণ মানুষের কাছে এটিই যাতায়াতের একমাত্র প্রধান রাস্তা। অপরদিকে, উত্তর-দক্ষিণ দিকে সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও মীর্জাপুর যাওয়ার একটি ব্যস্ত রাস্তা রয়েছে। চারদিক থেকে আসা সাধারণ মানুষ, সাইকেল, টোটো, বাইক, অটো ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। সকাল হলেই ভাগীরথীর সেতু থেকে মিঞাপুর রেলব্রিজ পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। পথচারী আলিম রহমান বলেন, রাস্তায় খুব ভিড়, চলাচল করতে পারছি না। বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা হলে খুব ভালো হয়। আরও এক ভুক্তভোগী জানান, প্রয়োজনে রোজ শহরে আসতে হয়। কিন্তু, ভীষণ ভিড়ে চলাচল করাই দায়। ১০মিনিটের কাজে এলেও রাস্তায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এদিকে বেলা বাড়লেই পথচলতি মানুষ ও ভারী যানবাহন চলাচল বাড়তে থাকে। পাল্লা দিয়ে বাড়ে দুর্ভোগও। যানজটের জন্য দায়ী অনিয়ন্ত্রিত টোটো চলাচল। তাছাড়া, ফুটপাত বা মূল রাস্তাজুড়েও হকারদের সাম্রাজ্য চলে। মাঝেমধ্যে পুলিস এসে সরিয়ে দেয়। কিন্তু দু’দিন যেতে না যেতেই হকারের দল আবার রাস্তা দখল করে বসে পড়ে। পুরসভার চেয়ারম্যান মহম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, যানজট মোকাবিলায় কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিসের পাশাপাশি তাঁরাও যানজট নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তবে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।