


তামিম ইসলাম, ডোমকল: পদ্মাপাড়ের জলঙ্গি বিধানসভা। বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত। বহু জায়গায় এখনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। ফলে আন্তর্জাতিক সীমারেখার পাশের জমিতে চাষ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় চাষিদের। যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণের নামে বিএসএফের ধমক-চমকানি যেন নিত্যসঙ্গী। আবার অনেক সময় বাংলাদেশিদের দ্বারা ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও নতুন নয়। পাশাপাশি পাচার চক্রের দৌরাত্ম্যও রয়েছে সীমান্ত এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে এইসব সমস্যায় জর্জরিত সীমান্তবাসীরা এবারে সমাধান চান। তাঁদের দাবি, যে-ই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন না কেন, এই সমস্যাগুলি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে হবে। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপি-সব দলের সমর্থকরাই চাইছেন সীমান্ত সমস্যা ও উন্নয়ন নিয়ে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া হোক।
ডোমকল মহকুমার কয়েক কিলোমিটার অংশ ছাড়া বাংলাদেশ সীমান্তে বেশিরভাগ অংশেই কাঁটাতারের বেড়া নেই। বেশিরভাগ এলাকায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে পদ্মা কিংবা তার শাখা নদী। আর সেই সুযোগেই সীমান্তজুড়ে সক্রিয় রয়েছে পাচারচক্র। এতে একদিকে যেমন কিছু অসাধু মানুষ লাভবান হচ্ছে, অন্যদিকে ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে চাষ করতে গেলেও প্রায়শই বিএসএফের বাধার মুখে পড়তে হয়। এন্ট্রি নেওয়ার সময় নানা হয়রানির অভিযোগও ওঠে।
চাষিদের আরও অভিযোগ, সীমান্তের জমিতে চাষ করার জন্য এন্ট্রি নিতে গেলেও মাঝেমধ্যেই তাঁদের দিয়ে নানা কাজ করিয়ে নেওয়া হয়। এবছর কোথাও কোথাও পাট চাষ করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি রানিনগরের কালীনগর-১ অঞ্চলের হারুডাঙা বিওপি এলাকায় পাট বুনতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের দাবি, আগের বছর যেখানে পাট চাষ হয়েছিল, সেখানে এবারে আর চাষ করতে দেওয়া হচ্ছে না, ফলে সমস্যায় পড়ছেন চাষিরা। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছে সীমান্তের চরের বেশ কয়েকটি গ্রাম। শিক্ষার হারও তুলনামূলক কম। ফলে দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি চান বাসিন্দারা। সাগরপাড়ার বাসিন্দা মইনুল হক বলেন, সার্বিক উন্নয়ন হলেও জলঙ্গি বিধানসভার সীমান্তবর্তী এলাকা বিশেষ করে চরগুলিতে উন্নয়ন সেভাবে পৌঁছায়নি। সীমান্তে চাষ করতে গিয়ে কৃষকদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। পাচারচক্রের দৌরাত্ম্যও বাড়ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আমরা চাই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এই সমস্যাগুলির সমাধান করুন।
এই সমস্যার কথা স্বীকার করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরাও।
জলঙ্গির সিপিএম প্রার্থী ইউনুস সরকার বলেন, আমি একসময়ে এই এলাকার টানা চারবারের বিধায়ক ছিলাম। জলঙ্গির চরগুলিকে জনবসতি স্থাপনের সময় থেকেই তাঁদের পাশে আছি। এলাকায় বিএসএফ, নদীভাঙন, আর্সেনিক, অনুন্নয়ন সহ নানা সমস্যা রয়েছে। আমরা সেইসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। ইতিমধ্যেই আমরা জলঙ্গিতে জিতলে কী কী কাজ করব, তার একটি ইস্তেহারও প্রকাশ করেছি। বিজেপি প্রার্থী নবকুমার সরকার বলেন, বিশেষ করে চর এলাকার উন্নয়ন হয়নি। মানুষ পরিবর্তন চাইছে। আমি নির্বাচিত হলে এই বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেব।
তৃণমূল প্রার্থী বাবর আলি বলেন, জলঙ্গি সীমান্তবর্তী এলাকা। বিএসএফ সমস্যা, নদীভাঙন, পরিযায়ী শ্রমিক-সব বিষয়েই আমাদের নজর রয়েছে। মানুষ আমাদের সুযোগ দিলে আমরা এই সমস্যাগুলির সমাধানে আরও জোর দেব।