Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীঘায় জগন্নাথদেবের প্রাণপ্রতিষ্ঠার মুহূর্তে বাড়ি বাড়ি শঙ্খধ্বনির আর্জি রাজ্যবাসীকে

দীঘায় জগন্নাথদেবের প্রাণপ্রতিষ্ঠার মুহূর্তে বাড়ি বাড়ি শঙ্খধ্বনির আর্জি রাজ্যবাসীকে
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: ভারতের পূর্ব উপকূলে পুরীর পর এবার দীঘার নবনির্মিত মন্দিরে শ্রীজগন্নাথদেবের প্রাণপ্রতিষ্ঠা ঘিরে রাজ্যব্যাপী প্রবল উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। দীঘার এই মন্দিরের স্থাপত্য ও পারিপার্শ্বিক ছবির সঙ্গে হুবহু পুরীর মন্দিরের মিল রয়েছে। প্রাণপ্রতিষ্ঠার মুহূর্তে রাজ্যজুড়ে বাড়ি বাড়ি তুলসিতলা ও দেবালয়ে মোমবাতি ও ধূপ জ্বালিয়ে উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সনাতন ব্রাহ্মণ ট্রাস্ট। সংগঠনের সম্পাদক শ্রীধর মিশ্র বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই দীঘায় এরকম মন্দির স্থাপন সম্ভব হয়েছে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

Advertisement

কোলাঘাট থেকে দীঘা যাওয়ার ১১৭কিলোমিটার রাস্তার দু’ধারে জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বড় বড় ফ্লেক্স লাগানো হয়েছে। তাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীঘার রূপকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থেই মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে দীঘা নতুন সাজে সেজে ওঠেছে। ২০১১সালে রাজ্যে পালাবদলের পর দীঘার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। দীঘা ওয়েলকাম গেট, ওল্ড দীঘায় বিশ্ববাংলা উদ্যান, নিউ দীঘায় ঢেউসাগর পার্ক, আন্তর্জাতিক মানের দীঘা কনভেনশন সেন্টার দীঘার পর্যটনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। নায়েকালী মন্দিরের সৌন্দর্যায়নও হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল দীঘা-শৌলা মেরিন ড্রাইভ। সমুদ্রপাড় বরাবর গাড়ি কিংবা বাইকে দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমণি এবং শৌলা পর্যন্ত জয়ড্রাইভ করা যাচ্ছে। সমুদ্রপাড় বরাবর দীঘা ও মন্দারমণিকে জুড়ে দেওয়ার বিরাট প্রোজেক্ট মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই সম্ভব হয়েছে।
দীঘায় প্রায় ২০একর জায়গাজুড়ে পুরীর আদলে তৈরি হয়েছে শ্রীজগন্নাথ মন্দির। ফলে এবার জগন্নাথ দর্শনেও দীঘায় ভিড় উপচে পড়বে। একসময় সপ্তাহান্তে দীঘায় ভিড় হতো। এখন সপ্তাহের সাতদিনই দীঘায় হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় থাকে। জগন্নাথ মন্দির চালুর পর পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে হোটেল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় দোকানদাররা মনে করছেন।
পুরো মন্দির চত্বর ছবির মতো সাজানো। সন্ধ্যা নামলেই চন্দননগরের আলোর রোশনাইয়ে পরিবেশ অনন্যসুন্দর হয়ে উঠছে। মন্দিরের বাইরে ১১৬বি জাতীয় সড়কের ধারে সুসজ্জিত নেচার পার্ক রয়েছে। জগন্নাথ মন্দিরের কাছেই ডব্লুবিএসইডিসিএলের গেস্ট হাউস। সেখানকার ম্যানেজার দিলীপকুমার ভুঁইয়া বলেন, জগন্নাথপ্রভুর টানে দীঘায় পর্যটকসংখ্যা আরও বাড়বে। পুরীর পাশাপাশি দীঘায় জগন্নাথ মন্দির নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে আলাদা আবেগ তৈরি হয়েছে। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, ১৩-১৪বছর ধরে দীঘাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে রাজ্য সরকার অনেক কাজ করেছে। যশ সাইক্লোনে ভয়াবহ বিপর্যয় সামলে দীঘাকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। আমরা নিশ্চিত, আগামী দিনে এখানে পর্যটকসংখ্যা কয়েকগুণ বাড়বে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ