সংবাদদাতা, বজবজ: বুইতা গ্রাম পঞ্চায়েতের মিঠাপুকুরের মোল্লাপাড়ায় বাড়ি শেখ মহম্মদ জুম্মান হোসেনের। সোমবার গভীর রাতে জঙ্গি যোগ সন্দেহে বজবজ থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এনআইএ’র অফিসাররা তাকে গ্রেপ্তার করেছেন। এই ঘটনায় ধৃতের পড়শি থেকে পরিচিত, সকলেই হতবাক। কেউই বিশ্বাস করতে চাইছেন না যে, জুম্মানের মতো এক সাদামাটা ছেলে এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকতে পারে। মঙ্গলবার মিঠাপুকুর অটো স্ট্যান্ড থেকে বাজার— সর্বত্রই একই চর্চা, জুম্মানের মতো ছেলেও এমন নয়! নিশ্চয়ই কোথাও ভুল হচ্ছে।
জুম্মানকে নিয়ে কেন ধন্দে এলাকাবাসী, প্রশ্ন করা হলে এক প্রতিবেশী বলেন, ওদের পরিবার খুব গরিব। জুম্মান পরিবারের একমাত্র ছেলে হলেও তার ন’জন বোন রয়েছে। জুম্মান দর্জির কাজ করে যা আয় করে, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চলে। সন্তোষপুর থেকে জিনসের কাপড় এনে বাড়িতে বসেই সেলাই করে। ছেলেটা না থাকলে পরিবারটাই ভেসে যাবে। ওর যদি সত্যি জঙ্গি যোগ থাকত, তাহলে অনেক টাকা রোজগার করতে পারত। আমরা এই পরিবারকে এতদিন ধরে দেখছি, কিন্তু পরিবারে কোনো পরিবর্তন দেখতে পাইনি। আরেক প্রতিবেশী বলেন, জুম্মান এমনিতেই কম কথা বলে। তবে গত জানুয়ারি মাসে নোদাখালি থানার পুলিশ জুম্মান হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছিল। কী ঘটনায় ধরেছিল, তা অবশ্য জানতে পারিনি। চার-পাঁচদিন পর জামিনে ছাড়া পেয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, যদি জঙ্গি যোগের প্রমাণ মিলত, তাহলে কি জুম্মান জামিন পেত? অন্য এক প্রতিবেশী অবশ্য বলেছেন, জুম্মানকে যতটা গরিব বলা হয়, ততটা নয়। এখন স্কুটার চড়ে ঘুরে বেড়ায়। নোদাখালি থানার পুলিশ যখন তাকে ধরেছিল, তখন জুম্মান বড়ো স্মার্ট ফোন ব্যবহার করত। ওই ঘটনার পর থেকে বড়ো মোবাইলের পরিবর্তে রহস্যজনকভাবে ছোটো ফোন ব্যবহার করত।