সংবাদদাতা, দিনহাটা: পাকা সেতু নেই, বাঁশের ‘জাকলা’ই ভরসা সাধারণ মানুষের। ২০২৫ সালেও প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত। উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি এক টুকরো গ্রাম। ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে যেখানে একদিকে রেল, সড়ক, উড়ালপুলের উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে দেশের চিত্র, সেখানে কষ্ট আর দীর্ঘশ্বাস যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে দিনহাটার বামনহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাদলগির ও সংলগ্ন গ্রামের মানুষের। শুধু একটা পাকা সেতুর অভাবে প্রতিদিন প্রাণহাতে নিয়ে চলাচল করছে শতাধিক মানুষ।
বাদলগির গ্রামের রায়পাড়ায় খোরার ডারার ওপর রয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো। যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘জাকলা’ নামে পরিচিত। এই জাকলার উপরে ভর করেই বছরের পর বছর, প্রায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে স্কুলপড়ুয়া, গর্ভবতী মহিলা সহ সাধারণ গ্রামবাসীরা। বছরের বেশিরভাগ সময়ই সাঁকোটি ভগ্নপ্রায় অবস্থায় থাকে। বর্ষাকালে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এক পা ভুল হলেই ঘটে যেতে পারে বড় দুর্ঘটনা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা গৃহশিক্ষক কানাই রায় বলেন, আমরা ছোট থেকে এই সাঁকো দেখে আসছি। বারবার লোক আসে, মাপজোখ হয়, কিন্তু কাজ কিছুই হয় না। রাস্তাঘাট ও সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণ। এগুলির উন্নতি না হলে গ্রাম কখনও এগতে পারবে না।
বাদলগির ছাড়াও আঁটিয়ালডাঙা, বগনিরহাট সহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এই রাস্তাটির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে বারবার জানানো হলেও, স্থায়ী পাকা সেতুর দাবি আজও অধরাই থেকে গিয়েছে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য সন্তোষ রায় বলেন, আমরা বারবার চেষ্টা করছি উপরমহলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে এখনও কোনও নিশ্চিত আশ্বাস পাইনি। নিজস্ব চিত্র।