


শ্রীকান্ত পড়্যা, এগরা: ভোটের প্রচারে স্লোগান দিচ্ছে, হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই। কিন্তু, ভোটে প্রার্থী নিজের ভাই। এগরা বিধানসভায় এবার তমলুকের প্রাক্তন সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকে বিজেপি প্রার্থী করায় এনিয়ে চর্চা তুঙ্গে। পুরসভার কর্মী থেকে আমজনতা প্রত্যেকের মুখেই কাঁথির পরিবারতন্ত্রের প্রসঙ্গ। ২০২০ সালে এই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ছেড়েছিলেন কাঁথির দাদা। অথচ, বিজেপিতে যাওয়ার পর সেই দলে নিজেই পরিবারতন্ত্রের নজির তৈরি করছেন বলে এগরার আমজনতার বক্তব্য। প্রবীণ বিজেপি নেতা অনুপ চক্রবর্তী সহ বেশ কয়েকজন এবার এগরা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে থাকলেও শেষমেশ কাঁথির পরিবারতন্ত্রের কাছে তাঁদের স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছে।
এ বিষয়ে দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, আমার বাবা এগরায় জন্মেছেন। ২০০৬ সালে তিনি এগরার বিধায়ক হয়েছিলেন। তার আগে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। এখানে পরিবারতন্ত্র কোনো ইস্যু নয়। আমি ভোটে জিতলে কাঁথি-এগরা-রেল প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করব।
এগরা পুরসভার কর্মী তথা ১৩ নম্বর কসবা এগরার বাসিন্দা দীপঙ্কর ত্রিপাঠী বলেন, এগরার মাটিতে যাঁরা কঠিন সময়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করল তাঁরা কেউ টিকিট পেলেন না। অথচ, দিব্যেন্দু অধিকারী উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো এখানে প্রার্থী হয়ে গেলেন। পরিবারের এক ভাই কাঁথির সাংসদ। আর এক ভাই ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভার প্রার্থী। দিব্যেন্দু এগরা বিধানসভার প্রার্থী। বিজেপি কর্মীরা আড়ালে আবডালে এনিয়ে আলোচনা করছেন।
এগরা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আদলাবাদের প্রদীপ দুয়ারি, ১ নম্বর কসবা এগরার কবিতা প্রধান বলেন, এগরার ভোটে পরিবারতন্ত্র একটা বড় ইস্যু হয়ে গিয়েছে। এমনিতেই এলপিজি গ্যাসের সংকট ও হয়রানি, এসআইআরে নাম বাতিলের মতো ঘটনায় বিজেপির উপর মানুষজন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তার উপর দিব্যেন্দু এগরায় প্রার্থী হওয়ায় পরিবারতন্ত্র একটা ফ্যাক্টর হয়েছে। এগরার মাটিতে বিজেপির আন্দোলন, কর্মসূচিতে দিব্যেন্দুবাবুকে সেভাবে দেখা যায়নি। অথচ, টিকিট পেল দিব্যেন্দু অধিকারী। এটা এগরা বিধানসভার অনেক মানুষ ভালো চোখে দেখছেন না।
সম্প্রতি এগরা পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ নেতা স্বপনকুমার নায়েকের বিরুদ্ধে অনাস্থা, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর এবং তাঁর জেলযাত্রার ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস বেশ ব্যাকফুটে। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কোর্টের নির্দেশে স্বপনবাবুই আবার চেয়ারম্যান পদে বসেছেন। এই প্রবীণ নেতার প্রতি দল অবিচার করেছে বলে এগরা শহরের বৃহত্তর অংশের মানুষ বিশ্বাস করেন।
এগরা শহরের দীঘা মোড় এলাকার বাসিন্দা অশোককুমার মাইতি কলকাতা ইউনিভার্সিটির কর্মী ছিলেন। মঙ্গলবার অশোকবাবু বলেন, ‘স্বপনবাবুর সঙ্গে দল যা করেছে সেটা সমর্থনযোগ্য নয়।’ একই বক্তব্য এগরা শহরের দীঘা মোড়ের ঝালমুড়ি দোকানদার বিশ্বজিৎ পাত্রেরও। তিনি বলেন, এখানকার বিধায়ক তরুণকুমার মাইতি গত পাঁচ বছরে সেভাবে উন্নয়ন করতে পারেননি। এবার এগরায় পরিবর্তনের পক্ষে হাওয়া বইছে।
এগরার পাঁচরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়দা গ্রামের রেলকর্মী অজিতকুমার মাইতি বলেন, আমাদের গ্রামে যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস করতেন তাঁদের অনেকে এখন বিজেপির সমর্থক। এত দ্রুত পরিবর্তন কীভাবে হল আমি জানি না। এগরা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি দেবাশিস জানা বলেন, শহরে নিজেদের মধ্যে কিছু সমস্যা ছিল। সেটা নির্বাচনী কার্যালয়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক নেতৃত্বের সঙ্গে মুখোমুখি বসে সমাধান করা চলছে। এবার এগরায় আমাদের জয় নিয়ে সংশয় নেই। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে এসআইআর নিয়ে হয়রানি, এলপিজি নিয়ে ভোগান্তির জবাব ইভিএমে দিতে পা বাড়িয়ে আছেন সাধারণ মানুষ।