সংবাদদাতা, কল্যাণী: পুজোর দিন যত এগচ্ছে কল্যাণীতে লাফিয়ে বাড়ছে দর্শনার্থী সংখ্যা। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতবছর পঞ্চমী থেকে দশমী কল্যাণীতে গড়ে প্রতিদিন চার লাখের মতো মানুষ এসেছিলেন শহরের বাইরে থেকে। ট্রেনগুলিতে ভিড় ছিল বাদুরঝোলা। কল্যাণী শহরের ভিতর পুজোর দিনগুলি সন্ধ্যার পর ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। মূলত এ-নাইন স্কোয়ার পার্ক, লুমিনাস ক্লাব এবং রথতলা সর্বজনীনের পুজোয় ভিড় হয়েছিল। সেসব জায়গায় ভোর থেকে মাঝরাত, কোনও সময়ের জন্যও ফাঁকা হয়নি মণ্ডপ। এত মানুষের সমাগমের ফলে ছোট শহর কল্যাণীর প্রধান রাস্তাগুলি ভরে গিয়েছিল আবর্জনায়। শহরের বাসিন্দারা বাইরে থেকে আসা অসচেতন দর্শনার্থীদের একাংশকে এ জন্য দায়ী করেছেন বাসিন্দারা। সেই অংশ খাবারের প্যাকেট থেকে জলের বোতল ফেলেছে সর্বত্র। অভিযোগ, একাধিক বাড়ির সামনে ও এমনকি পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢুকে মলমূত্র পর্যন্ত ত্যাগ করে গিয়েছিলেন অনেকে। এছাড়া দোসর ছিল যানজট। এ বছরও ভিড় শুরু হয়ে গিয়েছে গত বছরের মতোই। যানজটের কারণে শহরের এ থেকে বি ব্লকে যেতে লেগে যাচ্ছে দীর্ঘ সময়। বহু মানুষ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হচ্ছেন। অনেকে দাবি তুলেছেন, এত বড় পুজো করার দরকার নেই কল্যাণী শহরে।
কল্যাণী শহরের বাসিন্দা মানিক দাস বলেন, ‘দু’বছর আগে পাঁচিল টপকে বাড়ির ভিতরে ঢুকে মলত্যাগ করে গিয়েছিল। এই নোংরামো সহ্য করা যায় না। বাইরের মানুষের ভিড় বেশি থাকার কারণে শহরের বাসিন্দারা ঠিক করে ঠাকুর দেখতে পারেননি। এই বছরের ভিড়ও সেদিকে যাচ্ছে।’ উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত থেকে আসা এক দর্শনার্থী মানালি দাস বলেন, ‘বারাসতে কালীপুজোর সময় বা কলকাতার দুর্গাপুজোয় লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করে। আমরা সাদরে তাঁদের গ্রহণ করি। আসলে কল্যাণী শান্ত, নিরিবিলি জায়গা বলে এত ভিড়ে বাসিন্দাদের অসুবিধা হচ্ছে। কয়েক বছর গেলে সব অভ্যাস হয়ে যাবে।’ কল্যাণী লুমিনাস ক্লাবের এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘দুর্গাপুজো মানুষের আবেগ। বাইরে থেকে মানুষ আমাদের শহরে আসেন। তাঁদের সাদরে আমন্ত্রণ জানানো উচিত। সেটা না করে কিছু মানুষ সমালোচনা করছেন। এটা ঠিক নয়।’



