Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উড়ন্ত ছাইয়ে দমবন্ধ পরিস্থিতি, রেল ইয়ার্ড ঘিরে প্রবল ক্ষোভ বাসিন্দাদের, নিয়মের তোয়াক্কা না করে চলছে লোডিং-আনলোডিং

সাঁকরাইলের আবাদা রেল ইয়ার্ডে ফ্লাই অ্যাশ লোডিং-আনলোডিং চলতে থাকায় উড়ন্ত ছাইয়ের দৌরাত্ম্যে কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতি ভাগবতীপুর বরপাড়া, ঘোষপাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়।

উড়ন্ত ছাইয়ে দমবন্ধ পরিস্থিতি, রেল ইয়ার্ড ঘিরে প্রবল ক্ষোভ বাসিন্দাদের, নিয়মের তোয়াক্কা না করে চলছে লোডিং-আনলোডিং
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাঁকরাইলের আবাদা রেল ইয়ার্ডে ফ্লাই অ্যাশ লোডিং-আনলোডিং চলতে থাকায় উড়ন্ত ছাইয়ের দৌরাত্ম্যে কার্যত দমবন্ধ পরিস্থিতি ভাগবতীপুর বরপাড়া, ঘোষপাড়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। অভিযোগ, নিয়মের তোয়াক্কা না করেই চলছে এই কাজ। ফলে দূষণের মাত্রা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের জনজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিনের পর দিন ইয়ার্ড থেকে উড়ে আসা ছাই বাতাসের সঙ্গে মিশে গোটা অঞ্চলকে ধূসর করে দিয়েছে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, গাছপালা— কোনো কিছুই দূষণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দু’-তিন বছর ধরে এই সমস্যা লাগাতার চললেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দূষণের জেরে কৃষিজমির অবস্থাও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। চাষিদের কথায়, জমির উপর ছাই জমে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি পুকুর ও জলাশয়গুলিতেও ছাই জমে জলজ প্রাণের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষক গোপাল বর ও প্রফুল্ল মণ্ডল বলেন, ‘এই দূষণ বন্ধ না হলে আগামী দিনে চাষবাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এলাকার পরিবেশ ধ্বংস হবে, মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হবে।’

দূষণের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও। গৃহস্থ বাড়ির মহিলাদের অভিযোগ, দিনে একাধিকবার ঘর পরিষ্কার না করলে থাকা যাচ্ছে না। ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে আসবাবপত্র ও রান্নার সামগ্রী। তাঁদের দাবি, বহু মানুষের মধ্যে ত্বকের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা গীতা ধক ও সরস্বতী বর বলেন, ‘একটু জোরে হাওয়া হলেই ইয়ার্ড থেকে উড়ে আসা ছাইয়ে গোটা এলাকা ঢেকে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ভবিষ্যতে এখানে থাকা যাবে কি না, তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি।’ দূষণের কবলে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও। এই এলাকার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুস্মিতা দে বলেন, ‘ক্লাসরুমের জানালা সারাদিন বন্ধ রাখতে হয়, পাছে উড়ন্ত ছাই ঢুকে পড়ে। এতে ছাত্রছাত্রীদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে স্কুল চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’

কান্দুয়া পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, দূষণ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ আগেই সাঁকরাইল গুডস টার্মিনাল ইয়ার্ডকে নোটিস পাঠিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির অভিযোগের পর ফ্লাই অ্যাশ লোডিং ও আনলোডিং বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করে আগের মতোই কাজ চলছে। দূষণ রুখতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের সিজিএস দপ্তরে গণস্বাক্ষর সহ অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থআনীয় বাসিন্দারা। রেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ