নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পঞ্চায়েত স্তরে অনলাইনে সম্পত্তি কর আদায় শুরু হতেই বাড়তি লক্ষ্মীলাভের ইঙ্গিত মিলছে। একাধিক পঞ্চায়েতে অনলাইনে টাকা আদায় শুরু হতেই কর আদায়ের হারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ঘটনার জেরে উল্লসিত পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি থেকে পঞ্চায়েত কর্তারা। হুগলি জেলা সদরের চুঁচুড়া-মগরা ব্লকের মগরা-১ পঞ্চায়েতে অনলাইন চালু হতেই ব্যাপক হারে কর জমা পড়েছে। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র ১৫ দিনে কর আদায়ের পরিমাণ এক লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১২ মাসে পঞ্চায়েত প্রায় ১১ লক্ষ টাকা কর আদায় করেছিল। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের দাবি, বাড়িতে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে টাকা দেওয়ার পদ্ধতি চালু হওয়াতেই নাগরিকদের সুবিধা হয়েছে। তারই জেরে ওই লক্ষ্মীলাভ হয়েছে।
মগরা-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনলাইন কর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বিস্ময়কর যে, ১৫ দিনে আমরা লক্ষাধিক টাকা কর আদায় করতে পেরেছি। কর আদায়ের হার বৃদ্ধির একমাত্র কারণ, অনলাইনে কর নেওয়ার পদ্ধতি। গত অর্থবর্ষে এই সময়ে কার্যত কর আদায় হয়নি বললেই চলে। গোটা বিষয়টি যে অনলাইনে টাকা জমা দেওয়ার সুযোগেরই মহিমা, তা স্বীকার করছেন হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া। তিনি বলেন, বেশকিছু পঞ্চায়েত থেকে আমরা মানুষের আগ্রহের খবর পেয়েছি। বাস্তবে পঞ্চায়েতে যাতায়াত, লাইনে দাঁড়ানোর সময় বাঁচানোর সুযোগ পাওয়াতেই কর জমা করার আগ্রহ বেড়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত আর্থিক বছরেও উল্লেখযোগ্য কর আদায় না হওয়ার কারণে পঞ্চায়েতগুলিকে নোটিস ধরাতে হয়েছিল। শেষপর্বে এসে হুড়োহুড়ি করে পঞ্চায়েতগুলি তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছিল। সেই পরিস্থিতির ঠিক উল্টো দৃশ্য এবার এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। তাতেই সমস্ত কৃতিত্ব অনলাইন সিস্টেমের খাতায় জমা হচ্ছে। পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে টাকা আদায়, শিবির করে টাকা আদায়ের পরিশ্রম অনেকটাই লাঘব হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।