গণেশ মজুমদার, কালনা: বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পুজো দিয়েই মাতৃ আরাধনা শুরু হয়েছিল। কালনা থানার সাতগাছিয়া সরস্বতী সঙ্ঘের দশভুজার আরাধনাও একশো বছর পার করেছে। আজও এই সঙ্ঘ খেলাধুলো, সাংস্কৃতিক চর্চা, শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই সঙ্ঘ আজ এলাকার মানুষের গর্বের। এবারও সঙ্ঘের দুর্গাপুজোয় মেতেছেন এলাকার বাসিন্দারা। চারদিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
১৯১৭সাল। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অসন্তোষের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেইসময় কালনা-২ ব্লকের সাতগাছিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় শিক্ষার প্রসারে গড়ে ওঠে সরস্বতী সঙ্ঘ। প্রথমদিকে শুধু সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হতো। পরবর্তীতে দুর্গাপুজো শুরু হয়। এলাকার বাসিন্দা অনাথনাথ মুখোপাধ্যায়, আশুতোষ পাল, গোপালচন্দ্র ভড়, প্রসাদ গোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়, বিনয়কৃষ্ণ পাল, সনৎকুমার দে, সুশীল পালের আন্তরিকতায় খুব অল্প সময়ে সঙ্ঘের ভিত শক্ত হয়। শিক্ষা, খেলাধুলো ও সংস্কৃতি চর্চায় বিশিষ্টরা সঙ্ঘকে জমি দান করেন। পরবর্তীতে সঙ্ঘের জমির উপর স্কুল, গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র গড়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে ফুটবলে সুনাম কুড়ায় এলাকার ছেলেরা। সদস্যদের দাবি, একসময় অচ্যুৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনি গোস্বামী, শৈলেন মান্নার মতো দিকপাল খেলোয়াড়রা সঙ্ঘের মাঠে ফুটবলের কোচিং করিয়েছেন। শুধু খেলাধুলো, সাংস্কৃতিক চর্চা নয়, সামাজিক কাজে শ্মশানের জমি দানে এগিয়ে এসেছিল সঙ্ঘের প্রবীণরা। যদিও আজ তা ভাগীরথী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এলাকার খেলাধুলো ও শিক্ষার উন্নয়নে এই সঙ্ঘের ভূমিকা রয়েছে বলে বাসিন্দাদের দাবি। প্রবীণদের কথায়, প্রথম দুর্গাপুজোয় কলকাতার কুমোরটুলি থেকে রেলের ট্রলিতে করে প্রতিমা এসেছিল। প্রথম বর্ষের আনন্দ উৎসব ছিল বাঁধন ছাড়া। দূর দূরান্তের গ্রাম থেকে গোরুর গাড়িতে, হেঁটে বহু মানুষ মাতৃদর্শনে এসেছিলেন। সকলের জন্য ছিল ভোগ-প্রসাদের ব্যবস্থা। সেই ভোগ প্রসাদ বিতরণ আজও পুজোয় অতীত ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। সরকারিভাবে এবারও তারা পুজোর অনুদান এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা পেয়েছে। সঙ্ঘের সদস্য রাজু দাস বলেন, নবীণ-প্রবীন মিলে আমরা কাজ করি। স্থায়ী দুর্গা মণ্ডপ, নবীন-প্রবীণদের জন্য আলাদা আড্ডার ঘর রয়েছে। এখন এলাকায় পুজোর সংখ্যা বাড়লেও সঙ্ঘের দুর্গাপুজো সর্বজনীন মহামিলনের ক্ষেত্র। পুজোর ক’দিন সঙ্ঘ যেন একান্নবর্তী পরিবার।