Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ন’বছরে হয়েছে মাত্র তিনটি পিলার অস্থায়ী সেতু তৈরি করলেন বাসিন্দারাই

ন’বছরে হয়েছে মাত্র তিনটি পিলার অস্থায়ী সেতু তৈরি করলেন বাসিন্দারাই
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: শিলান্যাস হয়েছে আজ থেকে ন’ বছর আগে। এই দীর্ঘ সময়ে নদীর বুকে মাথা তুলেছে কেবল গোটা তিনেক থাম! আজও পুরুলিয়া-১ ও আড়ষা ব্লকের সংযোগকারী সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হল হয়নি। তাই বাসিন্দারা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে অস্থায়ী বাঁশের সেতু তৈরি করলেন। সেতুটি উৎসর্গ করলেন ‘সেতু সংগ্রাম কমিটি’-র অন্যতম সদস্য প্রয়াত রামপদ মাহাতর নামে। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, কংসাবতী নদীর একদিকে রয়েছে পুরুলিয়ার-১ ব্লকের কাঁটাবেড়া, গাড়াফুসর সহ জয়পুর ব্লকের বিস্তীর্ণ জনপদ। অন্য পাড়ে আড়ষা ব্লকের বামুনডিহা, জুরাডি, তুম্বা ঝালদা, আড়ষা, রাঙ্গামাটি, শিরকাবাদ সহ একাধিক গ্রাম। আড়ষার বাসিন্দাদের জীবিকার অনেকটাই জেলা শহর ও চাষমোড়কে ঘিরে। আড়ষায় ব্যাপক সব্জি চাষ হয়। সেই সব্জি ঝাড়খণ্ডের বোকারো বা জেলার সদর শহরে পৌঁছতে হলে চাষিদের নদী পেরিয়ে চাষমোড় আসতে হয়। চাষমোড় থেকে যানবাহনের সুবিধাও মেলে। তাই কাঁটাবেড়া ঘাটে সেতু তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় অস্থায়ী বাঁশের সেতুই ভরসা বাসিন্দাদের কাছে। 
গত বছরও বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু তৈরি করেছিলেন। আর জি করের চিকিত্সক পড়ুয়ার অভয়ার নামে সেতুটি উৎসর্গ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু জলের তোড়ে সেতুটি ভেসে যায়। এরপর ফের সেতু তৈরির কাজ শুরু করেন বাসিন্দারা। তবে, গত মাসে প্রবল বর্ষণের জেরে অসম্পূর্ণ সেই সেতুটিও ভেঙে যায়! হাওয়া ভরা চারটি বড় টিউবের উপরে বাঁশের ফালির মাচা বেঁধে তার উপরে পাতলা টিনের পাত বসিয়ে তৈরি ভেলাতেই শুরু হয় পারাপার। নদীর জল কিছুটা কমতে ফের সেতু তৈরি করলেন বাসিন্দারা। বামুনডিহার বাসিন্দা দেবীলাল মাহাত বলেন, এই এলাকায় সেতুটির যে কী গুরুত্ব, তা স্থানীয় বাসিন্দারা সবাই বোঝেন। কিন্তু নেতা, মন্ত্রী আর প্রশাসনই শুধু বোঝে না। তাই এক দশক হতে চললেও আজও কংক্রিটের সেতু হল না।
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই সেতুটির শিলান্যাস করেন তৎকালীন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত। পর্ষদের তরফে প্রায় ন’ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। মোট আটটি পিলার হওয়ার কথা ছিল। যদিও তিনটি পিলার তৈরি করেই নাকি সেতুর টাকা শেষ! দেখা নেই ঠিকাদারেরও। এ নিয়ে কাঁটাবেড়ার বাসিন্দা মধুসূদন মাহাত বলেন, কংক্রিটের সেতু না হওয়ার জন্য এলাকার মানুষদের প্রবল অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। তাই আমরা প্রতি বছরই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েই সেতু নির্মাণ করে থাকি। কিছুদিন আগেই আমাদের সেতু সংগ্রাম কমিটির অন্যতম সদস্য প্রয়াত রামপদ মাহাত প্রয়াত হয়েছেন, তাই সেতুটি আমরা তাঁকেই উৎসর্গ করলাম। এনিয়ে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, কীভাবে পুনরায় সেতুর নির্মাণ শুরু করা যায়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ