Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বারবার ২০০ টাকা দিয়ে আধারের সংশোধন করেও মিলছে না নির্ভুল কার্ড, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা

বারবার ২০০ টাকা দিয়ে আধারের সংশোধন করেও মিলছে না নির্ভুল কার্ড, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: আধার কার্ডের সমস্যা থেকে কোনওমতেই নিস্তার পাচ্ছেন না ঝাড়গ্রামের বাসিন্দারা। সরকার অনুমোদিত আধার সংশোধন কেন্দ্রগুলিতে গিয়ে তাঁরা গাঁটের টাকা খরচা করে কার্ড সংশোধন ও লিঙ্ক করছেন। সংশোধনের পরেও কোনও না কোনও ক্ষেত্রে আধার কার্ডে ভুল থেকেই যাচ্ছে। অনেক উপভোক্তা একাধিকবার টাকা খরচ করেও আধার কার্ড সমস্যা থেকে নিস্তার পাননি বলে অভিযোগ। এই সমস্যা ও হয়রানির জন্য সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল। বিজেপি চালিত কেন্দ্র সরকারকে একহাত নিয়েছে তৃণমূলের আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া শাখা।  ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই। আধার লিঙ্কে ফাইন খায়!’ এই ফেস্টুন জেলার বিভিন্ন জায়গায় টাঙিয়ে তৃণমূল প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই বিষয়ে তৃণমূলের জেলা সহ সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গী বলেন, বিজেপি চালিত কেন্দ্রীয় সরকারের বেশিরভাগ প্রকল্প বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো। আধার নিয়ে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। মানুষের হয়রানির শেষ নেই। আগামী দিনে আমরা এই নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, এখন সবকিছুই এজেন্সি দিয়ে হচ্ছে। আমার নিজের আধার কার্ড সংশোধন করার পরেও ভুল থেকে গিয়েছে। ২০১৬ সালে এই রাজ্য সরকার ব্যাঙ্কের বইয়ের সাথে আধার কার্ড লিঙ্কের বিরোধিতা করেছিল। যার ফলে আধার কার্ডের সদর দপ্তর এ রাজ্য ছেড়ে রাঁচি চলে গিয়েছে। এ রাজ্য থেকে যারা এজেন্সিতে কাজ করছে তারা রাজনৈতিক মদতপুষ্ট। এ রাজ্যে সরকার বদল হলে তবেই এই সমস্যা থেকে মানুষ নিস্তার পাবেন। 

Advertisement

ব্যাঙ্কের পাস বই, ভোটার কার্ড সংশোধন বা নতুন ভোটার কার্ডের আবেদন, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড সমস্ত কিছুতেই আধার লিঙ্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রেশন কার্ডে বা ভোটার কার্ডের নামের সাথে আধারের নামের অমিল, জন্ম তারিখ ভুল, অনেকের বাবার নাম বা ভুল ঠিকানার জন্য গ্রামাঞ্চল থেকে মানুষজন আধার সংশোধন কেন্দ্রগুলিতে ভিড় জমাচ্ছেন। আধার সংশোধনের কাজে প্রত্যেকের খরচ হচ্ছে ২০০ টাকা। অনেকেরই অভিযোগ, টাকা দিয়ে আধার কার্ড সংশোধনের পরেও অন্য ভুল থেকেই যাচ্ছে। কেউ হয়তো নামের বানান ঠিক করেছেন। পরে তাঁর জন্ম তারিখ ভুল ধরা পড়ছে। একেক জন ব্যক্তিকে দু-তিনবার সেন্টারগুলিতে এসে টাকা খরচ করে কার্ড সংশোধন করাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা মানুষজনদের বাস ভাড়া খাওয়া-দাওয়া মিলে তাঁদের প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। আর এতেই তিতিবিরক্ত খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল বাদে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল ঝাড়গ্রামে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়নি। সাধারণ মানুষের এই বিরক্তি সামনের বিধানসভা নির্বাচনে ভালোমতোই প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ