সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: গত ৫ অক্টোবরের দুর্যোগে শিসামারা নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল আলিপুরদুয়ারের শালকুমারের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রায় এক মাস কেটে যাওয়ার পরেও ওই নদীর বাঁধ মেরামতে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা আরও ক্ষুব্ধ মান-থার জেরে জল বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার শিসামারার সেই ভাঙা বাঁধ দিয়ে জল ঢুকে শালকুমারের আরও চারটি এলাকা প্লাবিত হওয়ায়। সেচদপ্তর অবশ্য জানিয়েছে, শিসামারার ভাঙা বাঁধ মেরামতে এস্টিমেট তৈরির কাজ চলছে। ৫ অক্টোবরের দুর্যোগে শিসামারার উজানে পুরনো নড়বড়ে ৫৭০ মিটার জিও সিন্থেটিক বাঁধ ভেঙে যায়। অক্ষত থাকে নদীর ভাটিতে থাকা ৯০০ মিটার বোল্ডার বাঁধ। মান-থার প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই জেলাজুড়ে বৃষ্টি চলছে। বৃষ্টির জন্য ফের ফুঁসে উঠেছে শিসামারা।
শুক্রবার শিসামারার সেই ভাঙা বাঁধ দিয়ে শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুনপাড়ার জুম্মাটারী, নবীন সংঘ কলোনি ও একটি বস্তিসহ চারটি এলাকা প্লাবিত হয়।
এভাবে বারবার এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। ৫ অক্টোবরের প্লাবনের পর প্রায় এক মাস কেটে গিয়েছে। অথচ তারপরেও শিসামারার ভাঙা বাঁধ মেরামতে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। একই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে পঞ্চায়েত প্রশাসনের মধ্যেও।
বারবার প্লাবনে নাজেহাল গ্রামবাসীরা চাইছেন দ্রুত অর্থ বরাদ্দ করে শুখা মরশুমে শিসামারায় শক্তপোক্ত বোল্ডার বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করুক সেচদপ্তর।
শালকুমার-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রীবাস রায় বলেন, বাঁধ ভেঙেছে। এখন নদীতে জল বাড়লে ভাঙা বাঁধ দিয়ে এলাকায় তো বারবার জল ঢুকবেই। অথচ প্রথম দফার দুর্যোগের পর এক মাস কেটে গিয়েছে। সেচদপ্তর এখনও সেই ভাঙা বাঁধ মেরামতে এস্টিমেট তৈরি বা অর্থ বরাদ্দই করেনি। ফলে গ্রামবাসীরা তো ক্ষুব্ধ হবেই। আর ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে পঞ্চায়েত প্রশাসনকেই।
গ্রামবাসীরা এবার শিসামারায় স্থায়ী সমাধান চাইছেন। যাতে বার বার তাঁদের আর প্লাবনের মুখোমুখি হতে না হয়। সেজন্য স্থায়ী সমাধান হিসেবে গ্রামবাসীরা জিও সিন্থেটিক নয়, চাইছেন শক্তপোক্ত বোল্ডার বাঁধ। যেমন শিসামারার ভাটির দিকে ৯০০ মিটার বাঁধ অক্ষত আছে।
সেচদপ্তরের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার উত্তম হালদার অবশ্য বলেন, শিসামারার ভাঙা বাঁধ মেরামতের জন্য এস্টিমেট তৈরির কাজ চলছে। এস্টিমেট তৈরি করে রাজ্যে পাঠানো হবে। তারপর রাজ্য থেকে অর্থ বরাদ্দ হলে শুখা মরশুমেই শিসামারার বাঁধ তৈরির কাজ শুরু হবে।