Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জের, রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাংক

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জের, রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাংক
  • ৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

মুম্বই ও নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে ব্যাহত জ্বালানি সরবরাহ। দামবৃদ্ধি হয়েছে গ্যাস, পেট্রল ও ডিজেলের। এই অবস্থায় শুক্রবার বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিতই রাখল রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। আরবিআইয়ের ছয় সদস্যের আর্থিক নীতি নির্ধারণ কমিটির দু’দিনব্যাপী আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় আপাতত গাড়ি, গৃহঋণে সুদ বাড়ছে না। পাশাপাশি এদিন প্রকাশিত সরকারি তথ্য দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে বাজারের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে ভারতীয় অর্থনীতি। সরকারের দাবি, গত অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রকৃত মোট দেশীয় উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৮ শতাংশ হারে। সেই হিসাবে ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের বৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশে। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের দাবি, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা জিইয়ে থাকায় চলতি অর্থবর্ষের (২০২৬-২৭) জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে আরবিআই। গত এপ্রিলে ৬.৯ শতাংশ থেকে নামিয়ে তা ৬.৬ শতাংশ হওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছে এদিন। 

Advertisement

আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এদিন নিজের ভাষণের শুরুতেই উল্লেখ করেন, ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত আত্মবিশ্বাসী। তবে একইসঙ্গে তিনি মেনে নেন, চলতি ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। দুর্বল বর্ষা প্রভাব ফেলতে পারে আর্থিক বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির উপরও। তবে তাঁর দাবি, মজুত পণ্যের ভাণ্ডার পর্যাপ্ত হওয়ায় তা স্বস্তি দিচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, নীতি নির্ধারণ কমিটির আগের বৈঠকের পর থেকে বিশ্বের পরিস্থিতিতে অবনতি ঘটেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাত এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের বিরূপ প্রভাব নিয়ে এবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ধাক্কা সত্ত্বেও কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) বা উপভোক্তা মূল্য সূচক মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার নীচেই রয়েছে। যদিও প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সহনশীলতার শেষ সীমার দিকে এগনোরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরবরাহ সংকটের প্রভাব চতুর্থ ত্রৈমাসিক থেকে কমতে শুরু করবে বলে আশা রিজার্ভ ব্যাংকের।
গভর্নরের আরও দাবি, এই মুহূর্তে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে। তবে, মুদ্রাস্ফীতির ব্যাপক বৃদ্ধির সুস্পষ্ট আশঙ্কাও রয়েছে। এনিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। এছাড়াও, স্বাভাবিকের চেয়ে কম দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর পূর্বাভাস এবং এল নিনোর ঝুঁকির কারণে পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা থাকছে। জ্বালানির দামবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক সরবরাহের সীমাবদ্ধতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। যদিও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এখনও স্থিতিশীল। উৎপাদন ও পরিষেবা খাতের কার্যকলাপ বাড়চ্ছে। তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টর অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মন্দার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ