Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দলের ভিতরে সন্দেহের বাতাবরণ, কর্মীদের নানা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষোভ জেলা বিজেপিতে

একুশের মতো গেরুয়া ঝড় নেই। বিজেপির বড় নেতাদের জেলায় এখনও প্রচারে দেখা যাচ্ছেনা। জেলায় ভোট পরিচালনার দায়িত্বে কারা তা নিয়েওকর্মীরা ধোঁয়াশায়।

দলের ভিতরে সন্দেহের বাতাবরণ, কর্মীদের নানা নিষেধাজ্ঞায় ক্ষোভ জেলা বিজেপিতে
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: একুশের মতো গেরুয়া ঝড় নেই। বিজেপির বড় নেতাদের জেলায় এখনও প্রচারে দেখা যাচ্ছেনা। জেলায় ভোট পরিচালনার দায়িত্বে কারা তা নিয়েওকর্মীরা ধোঁয়াশায়।দলীয় কার্যালয়ের বৈঠকে কর্মীদের মোবাইল নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নেতাদের বৈঠকে শহর কার্যালয়ের দোতলার গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গেরুয়া শিবিরে সন্দেহের আবহে কর্মীদের ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম শহরের সিধো কানহো মোড় সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির জেলা কার্যালয়।সদর কার্যালয়ে দলের নেতারা কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছেন। কার্যালয়ের ভিতরের খবর বাইরে প্রকাশ হওয়া আটকাতে নয়া ফরমান জারি করা হয়েছে।বৈঠকে দলীয় কর্মীরা মোবাইল নিয়ে ঢুকতে পারবেননা। কার্যালয়ে দলীয় নেতৃত্বের বৈঠকের সময় দোতলার গেটে তালা মেরে দেওয়া হচ্ছে।যাতে নেতৃত্বের বৈঠক চলাকালীন দলের কর্মীরা উপরে যেতে না পারেন। তাঁদের প্রতি এই আচরণ নীচুতলার কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।মিটিং, মিছিল, দেওয়াল লিখনের কাজে যুক্ত কর্মীরা টাকাপয়সা চাইতে কার্যালয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু গিয়ে শুনছেন টাকা আসেনি। টাকা এলে দিয়ে দেওয়া হবে, শুনতে শুনতেকর্মীদের একাংশ ক্লান্ত। তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।জামবনী ব্লকের দুবড়া এলাকার কর্মীরা দেওয়াল লিখনের টাকা না পেয়ে শহরের কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে গিয়েছেন। সূত্রের খবর, ভোট পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জেলার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনি রণকৌশলে হঠাৎ করে দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের সঙ্গে জেলা বিজেপির ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের মধ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে।‌ দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে দুই গোষ্ঠীর নেতাদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছেনা। দলের নীচুতলার কর্মীরা যা নিয়েইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন। বিনপুর বিধানসভার বিজেপি নেতাকর্মীদের বড় অংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছেন। উনিশ ও একুশের বিধানসভা ভোটে তাঁরাই সামনের সারিতে ছিলেন। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দলীয় কর্মীদের উপর চাপানো নানা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। ঝাড়গ্রাম শহরের এক বিজেপি কর্মী বলেন, বৈঠকে এখন মোবাইল নিয়ে ঢোকা যাবেনা বলা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে দলের ভিতরের খবর বাইরে চলে যাবে। সন্দেহের এমন বাতাবরণে একজোট হয়ে প্রচার করা যাচ্ছে না। সংগঠন আগেও ছিলনা। ভোটে নেতারা ইগো নিয়ে ভুগছেন।কর্মীদের উপর সন্দেহের খাড়া ঝুলিয়ে নিজেরা পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।জামবনী ব্লকের এক বিজেপি নেতা বলেন, প্রণত টুডুকে নিয়েএলাকার নীচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ রয়েছে। ব্লক ও শহরের কার্যালয়ে তাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগ রেখে চলছেন।স্বাভাবিকভাবেই দল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূণ ষড়ঙ্গি বলেন, জেলায় বিজেপির কোনো সংগঠন নেই।ভিন রাজ্য থেকে নেতারা আসছেন। তাঁদের আলাপ আলোচনা গোপনে চলছে। সেইজন্যেই কার্যালয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর নানা ফরমান চাপানো হচ্ছে। আমাদের পার্টি অফিসে সকলের অবারিত দ্বার। মানুষের জন্য কাজ করব, তাতে লুকোছাপার কিছু নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ